রাজধানীর গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার আরও দুজনকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তাঁরা হলেন নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল মাহমুদ এবং মো. রফিক।
বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত তাঁদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে রাসেল মাহমুদকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা এবং রফিককে দলটির কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. রুহুল আমিন তাঁদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী শেখ ফরিদ রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানালেও শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলাটি গত ১১ সেপ্টেম্বর গুলশান এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের একটি মিছিল এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে করা হয়। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই দিন বেলা পৌনে ১২টার দিকে নেতা-কর্মীরা সমবেত হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশের দিকেও ককটেল নিক্ষেপ করা হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। এগুলো মামলার অভিযোগ; আদালতে এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে এবং ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধারের কথা জানায়। গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন। এতে ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এই মামলায় এর আগেও কয়েক দফায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর তথ্য একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এরপর আরও কয়েকজনকে বিভিন্ন দিনে কারাগারে পাঠানো হয়।
এখন নতুন করে রাসেল মাহমুদ ও রফিককে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে মামলার ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পেল তদন্তকারী সংস্থা।

