সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাঠানো চিঠি নির্বাচন কমিশন পেলেও এখনই তাঁর সংসদ সদস্যপদ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করতে জাতীয় সংসদ সচিবালয় বা স্পিকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি আসতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব এসব কথা বলেন। গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ নিয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্পিকারের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চিঠি কমিশন পায়নি।
তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে আগেই জানানো হয়েছিল। গত ২৩ জুলাই জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত চিঠি জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া হয়। চিঠিতে দলটি জানায়, সাংগঠনিক তদন্তের পর গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বিষয়টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে।
জামায়াতের ওই চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন নিজ উদ্যোগে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব সরাসরি জানান, সেই সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের বিষয়ে সংসদ সচিবালয় থেকে নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর বিধান রয়েছে।
ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশনের মূল দায়িত্ব নির্বাচন ব্যবস্থাপনা করা। সংসদ সদস্যপদসংক্রান্ত পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ভূমিকা রয়েছে। স্পিকার বা সংসদ সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিষয় কমিশনের কাছে পাঠানো হলে তখন আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগেও নির্বাচন কমিশন থেকে একই ধরনের অবস্থান জানানো হয়েছিল। গত জুলাইয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছিলেন, শুধু দল থেকে বহিষ্কারের কারণে নির্বাচন কমিশন সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না। সংসদ থেকে বিষয়টি কমিশনে পাঠানো হলে প্রয়োজনীয় তদন্ত বা শুনানির মাধ্যমে আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে।
গাজী নজরুল ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচিত হন। তিনি ১ লাখ ৬ হাজার ৯১৩ ভোট পেয়েছিলেন। তাঁর নিকটতম বিএনপি প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান পেয়েছিলেন ৮৫ হাজার ৪২৬ ভোট।
গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত বিষয় নিয়ে সাংগঠনিক তদন্তের পর দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরদিন তাঁর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠায় দলটি।
ফলে দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পরও গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ নিয়ে নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। ইসির বর্তমান বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ বা স্পিকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি কমিশনে না আসা পর্যন্ত কমিশন নিজ উদ্যোগে তাঁর সংসদ সদস্যপদ নিয়ে ব্যবস্থা নেবে না।
এদিকে নভেম্বরে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে নির্বাচন হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব জানান, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কমিশন সিদ্ধান্ত নিলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

