কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পৃথক পোস্ট দিয়ে তাঁরা এ ঘটনার নিন্দা জানান।
শনিবার রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার নিউ গিনি প্রপার্টিজে থাকা সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওর ভিডিও প্রকাশ করেন সালমান। ভিডিওতে স্টুডিওর বিভিন্ন আসবাব ও সরঞ্জাম ভাঙচুর অবস্থায় দেখা যায়।
সালমান অভিযোগ করেন, চাঁদা আদায়সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আবাসন প্রকল্পটিতে হামলা চালানো হয় এবং সেই হামলায় তাঁর স্টুডিওও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হামলার পেছনে কারা ছিল এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের সঙ্গে কারা জড়িত, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পর রাতেই ফেসবুকে দুটি পোস্ট দেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। একটি পোস্টে ঘটনাস্থলের ভিডিও যুক্ত করে তিনি চাঁদা না দেওয়ার কারণে সালমানের স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। আরেকটি পোস্টে জুলাই আন্দোলনের সময় সালমান মুক্তাদিরের ভূমিকার একটি ভিডিও শেয়ার করে তাঁর পাশে থাকার বার্তা দেন আসিফ।
একই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যদি একজন নাগরিককে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের ভয় নিয়ে চলতে হয়, তাহলে সেই পরিবর্তনের অর্থ কোথায়। একই সঙ্গে তিনি হামলার নিন্দা জানান।
সালমান মুক্তাদিরের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় তাঁর কোনো কর্মী আহত হননি। তবে স্টুডিওর ক্যামেরা ও অন্যান্য সরঞ্জাম এবং আসবাবের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে নিউ গিনি প্রপার্টিজ কর্তৃপক্ষও হামলার ঘটনায় আলাদা অভিযোগ তুলেছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়ার দাবি, আবাসন প্রকল্পটির জমি দখলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হামলাটি চালানো হয়েছে। তাঁর এই দাবিও তদন্তসাপেক্ষ।
ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। সালমান মুক্তাদির নিজেও জানিয়েছেন, হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির পরও তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন।

