সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ শুরু হয়েছে আজ। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সকালেই শুরু হচ্ছে শেয়ারবাজারের লেনদেন। গত সপ্তাহের শেষ দিনে দেশের শেয়ারবাজারে সূচক কমেছিল। ফলে নতুন সপ্তাহে বাজার কোন দিকে যায়, কোন কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ে কিংবা কমে, সেদিকে নজর থাকবে বিনিয়োগকারীদের।
শেয়ারবাজারের পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হার, ব্যাংকের আমানত ও ঋণের সুদ, সোনার দাম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারও থাকবে আলোচনায়। বিশেষ করে সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন খরচ বৃদ্ধির প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে পড়তে শুরু করেছে।
গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সব প্রধান সূচকই কমেছিল। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৭৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইএস সূচক ৩ পয়েন্ট কমে হয় ১ হাজার ১১৬ পয়েন্ট।
অন্যদিকে ডিএস-৩০ সূচক ১০ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১২ পয়েন্টে থামে। ওই দিন ডিএসইতে প্রায় ৭৫৬ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। আজ রোববার এই অবস্থান থেকেই নতুন সপ্তাহের লেনদেন শুরু হবে।
বিদেশি মুদ্রার বাজারেও কয়েক দিন ধরে ওঠানামা চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মার্কিন ডলারের দাম ছিল ১২৩ টাকা ১৫ পয়সা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে বেশির ভাগ বিদেশি মুদ্রার দাম কমেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড, চীনা ইউয়ান, জাপানি ইয়েন, অস্ট্রেলীয় ডলার ও সিঙ্গাপুরি ডলার। ভারতীয় রুপির দাম অপরিবর্তিত থাকলেও মার্কিন ডলারের দাম বেড়েছে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত বিনিময় হারের সঙ্গে ব্যাংক ও খোলাবাজারের দরে পার্থক্য থাকতে পারে। ব্যাংকভেদেও বিদেশি মুদ্রার কেনাবেচার দামে কিছুটা তারতম্য দেখা যায়।
ব্যাংকের আমানত ও ঋণের সুদহারও গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ব্যাংক খাতে ঋণের গড় সুদহার ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ। বিপরীতে আমানতের গড় সুদহার ৬ দশমিক ২২ শতাংশ।
তবে সব ব্যাংক বা সব ধরনের আমানতে একই সুদ পাওয়া যায় না। ব্যাংক ও স্কিমভেদে সুদহারে পার্থক্য রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি এফডিআরে অনেক ব্যাংক ১০ শতাংশের বেশি সুদ দিয়ে থাকে। অন্যদিকে বিভিন্ন ধরনের হিসাব ও স্বল্পমেয়াদি আমানতে সুদের হার তুলনামূলক কম।
ঋণের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। ঋণের ধরন ও ব্যাংকভেদে সুদের হার পরিবর্তিত হয়। এসএমই, ব্যক্তিগত ও শিল্পঋণে সুদের হার এক নয়। ব্যক্তিগত ও শিল্পঋণের ক্ষেত্রে কোনো কোনো ব্যাংকে তা ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
এদিকে দেশের সোনার বাজারেও দামের ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ শনিবার সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি ভালো মানের সোনার দাম এখন ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।
সোনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বড় উদ্বেগ নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন পণ্যের দামেও এর প্রভাব পড়ছে। বাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
মুরগি ও ডিমের দামও তুলনামূলক উঁচু পর্যায়ে রয়েছে। বাজারে প্রতি ডজন ডিম প্রায় ১৫০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আটা ও ময়দার দামও বৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে।
বাজারে এই চাপের পেছনে বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। গত রোববার সরকার ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে। এতে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩৫ টাকা। পেট্রলের নতুন দাম লিটারপ্রতি ১৬০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৬৫ টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজারেও জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা চলছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের বাজারে বাড়তি চাপ রয়েছে। দেশের বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার পর এখন এর প্রভাব পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দামে কতটা ছড়িয়ে পড়ে, সেটিও নতুন সপ্তাহে অর্থনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

