গাজীপুরের কালিয়াকৈরে প্রেমিকের বাসায় যাওয়ার পর ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় শান্ত পাল (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
গত রোববার দুপুরে উপজেলার সফিপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরদিন সোমবার নিহত তরুণীর বাবা মনি বনিক বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন।
গ্রেপ্তার শান্ত পাল কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাচাইল পালপাড়া গ্রামের সুনিল চন্দ্র পালের ছেলে। তিনি কালিয়াকৈরের সফিপুর আহমদনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। নিহত তরুণীর বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মধ্যপাড়া বাজার এলাকায়।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রের ভাষ্য, প্রায় তিন বছর ধরে ওই তরুণীর সঙ্গে শান্ত পালের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রোববার সকালে কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তরুণী। পরে কালিয়াকৈরের সফিপুর এলাকায় শান্ত পালের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। এরপর তাঁকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বাসায় তরুণীকে কয়েক দফা ধর্ষণ করা হয়। পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের দাবি, তরুণীর মৃত্যুর পর শান্ত পাল মোবাইল ফোনে তাঁদের বিষয়টি জানান। পরে ওই রাতেই তরুণীর মরদেহ নিয়ে ময়মনসিংহের ভালুকায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে যান শান্ত।
সেখানে স্বজনদের সন্দেহ হলে তাঁরা শান্তকে আটক করেন। পরে তরুণীর মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং ময়নাতদন্ত করা হয়।
একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন শান্ত পালকে মারধর করে ভালুকা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে বিষয়টি কালিয়াকৈর থানা পুলিশকে জানানো হলে তাঁকে কালিয়াকৈর থানার হেফাজতে নেওয়া হয়।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় শান্ত পালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তবে তরুণীর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে ময়নাতদন্তের ফলাফলের তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে পরিবারের অভিযোগ এবং মামলার বিষয়গুলো তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

