‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ শিরোনামের একটি গানের অডিও-ভিডিও কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গানটিতে সংগীতশিল্পী তাসরিফ খানের মতো কণ্ঠ শোনা যাওয়ার পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে তাঁর কনসার্টের ভিডিও। ফলে অনেকেই গানটি তাসরিফের বলে ধরে নিয়েছেন। তবে শিল্পীর দাবি, গানটি তাঁর নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর কণ্ঠ নকল করে এটি তৈরি করা হয়েছে।
বুধবার সকালে বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তাসরিফ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দলের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির বিভিন্ন লিংক ইতিমধ্যে শনাক্ত করেছেন। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার কথাও জানিয়েছেন এই শিল্পী।
তাসরিফের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই-তিন দিন আগে পরিচিত কয়েকজন তাঁকে বিষয়টি জানান। তাঁদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, পাঁচ থেকে ছয় দিন ধরে অডিও-ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রথমদিকে বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব না দিলেও পরে এর বিস্তার দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি।
বিশেষ করে টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে গানটি রিলস আকারে ছড়িয়ে পড়তে দেখে বিষয়টিকে আর হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন তাসরিফ। সে কারণেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
ভাইরাল গানটি নিয়ে তাসরিফের দাবি, তিনি ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত যে তাঁর কণ্ঠ নকল করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে অডিওটি তৈরি করা হয়েছে। তাঁর ধারণা, কোনো একটি কনসার্ট থেকে তাঁর ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে সেটির সঙ্গে কৃত্রিমভাবে তৈরি অডিও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
তাসরিফের অভিযোগ, ভিডিওটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে সাধারণ দর্শকের কাছে মনে হয় তিনি নিজেই গানটি পরিবেশন করছেন। কনসার্টের দূর থেকে ধারণ করা একটি ভিডিও ব্যবহারের কারণেও কণ্ঠ ও ঠোঁটের নড়াচড়ার অসামঞ্জস্য সহজে বোঝা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন তিনি।
ঘটনার পেছনে তাঁকে হয়রানি করার উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তাসরিফ। এমনকি এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও তিনি মনে করছেন। তবে তাঁর এই ধারণার পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
তাসরিফ বলেন, আগেও বিভিন্ন অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি কথা বলেছেন এবং ভবিষ্যতেও একজন শিল্পী হিসেবে নিজের দায়বোধ থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে যাবেন। এ ধরনের ঘটনায় তিনি পিছপা হবেন না বলেও জানান।
তাঁর দাবি, শতাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে ভিডিওটি আপলোড করা হয়েছে। ফলে শুধু পৃথকভাবে কনটেন্ট রিপোর্ট করে ভিডিওটির বিস্তার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ কারণেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাসরিফ। সাধারণ ডায়েরি করার পাশাপাশি বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তিনি।

