ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ। তাঁর দাবি, উপজেলা থেকে পাঠানো তালিকায় প্রথম স্থানে থাকা আবেদনকারীকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্যক্তিকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তি তাঁকে উৎকোচ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা একটার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ তোলেন ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ আগস্ট ময়মনসিংহের ১৪টি উপজেলার ১৪৫টি ইউনিয়নে মোট ১৫৬ জন সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১২ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। পুরো জেলায় প্রায় ১ হাজার ৭০০টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখা থেকে শুক্রবার সকালে প্রকাশিত অনুমোদিত তালিকায় ঈশ্বরগঞ্জের সরিষা ইউনিয়নের ডিলার হিসেবে জিয়া এন্টারপ্রাইজের নাম রয়েছে। জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশের তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ছিল প্রথম।
তবে সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদের দাবি, উপজেলা থেকে জেলায় পাঠানো তালিকায় সরিষা ইউনিয়নের জন্য দুজন আবেদনকারী ছিলেন। সেখানে প্রথম স্থানে ছিলেন জিওস্ট্রাক্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের মালিক তাকলিমা আক্তার এবং দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন জিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক জিয়াউর রহমান ভূঁইয়া।
ফেসবুক পোস্টে মাজেদ অভিযোগ করেন, অন্য জায়গায় তালিকার প্রথম ব্যক্তিকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হলেও সরিষা ইউনিয়নে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর পেছনে কোনো স্বার্থ কাজ করেছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই সংসদ সদস্য।
তবে ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া জিয়াউর রহমান ভূঁইয়া ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নিজেকে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য দাবি করে তিনি বলেন, আবেদন করার পর সংসদ সদস্যের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। কিন্তু কাউকে কোনো টাকা দেননি এবং জেলা প্রশাসনের কারও সঙ্গে যোগাযোগও করেননি।
অন্যদিকে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান জানিয়েছেন, ডিলার নিয়োগে নীতিমালার বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উপজেলা থেকে পাঠানো তালিকায় কোনো পরিবর্তন করা হয়নি এবং বাদ পড়া আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় যোগ্যতায় ঘাটতি থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমানও এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় স্থানে থাকা আবেদনকারী তাঁর কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে প্রথম স্থানে থাকা আবেদনকারীর আয়কর রিটার্ন নেই। ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও সংসদ সদস্যকেও জানানো হয়েছিল বলে জানান ইউএনও।
ফলে সরিষা ইউনিয়নের সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্যের অভিযোগের বিপরীতে জেলা প্রশাসন ও ইউএনওর ভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে। এমপি যেখানে আর্থিক লেনদেন ও তালিকার ক্রম পরিবর্তনের অভিযোগ তুলেছেন, সেখানে প্রশাসনের দাবি, নিয়োগে নীতিমালার বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

