বাবা ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। পরিবারের কয়েকজন সদস্য আবার বিজেপির সমর্থক। অথচ সেই পরিবারেরই তরুণী নেহা বোরা এখন নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পরিচিত মুখ। শিক্ষা, কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে ভোটাধিকার—বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে তাঁর সরব উপস্থিতি তাঁকে তরুণদের মধ্যে আলোচিত করে তুলেছে।
কখনো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দীর্ঘ অনশনে বসেছেন নেহা, কখনো মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন। আবার ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলনে পুলিশের ব্যারিকেডে উঠে প্রতিবাদ জানাতেও দেখা গেছে তাঁকে। আন্দোলন করতে গিয়ে আটক হয়েছেন, তাঁর গায়ে কালি ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর। এরপরও প্রতিবাদের মাঠ থেকে সরে যাননি এই ছাত্রনেত্রী।
নেহা বোরার রাজনৈতিক ও আন্দোলনকারী পরিচয়ের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক পটভূমির রয়েছে স্পষ্ট বৈপরীত্য। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সন্তান এবং বিজেপি-সমর্থক সদস্য থাকা পরিবারে বেড়ে উঠলেও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছেন আলাদাভাবে। তাঁর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে বামপন্থী রাজনৈতিক বিশ্বাসের প্রভাব স্পষ্ট।
তবে নেহার উত্থানকে শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার সুযোগ নেই। শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ নিয়ে তরুণদের উদ্বেগ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থার মতো বিষয়গুলোকে সামনে এনে আন্দোলনে সক্রিয় হয়েছেন তিনি।
বিশেষ করে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ তাঁর আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি সামনে এনে দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন করেছেন নেহা। দাবি আদায়ে অনশনসহ কঠোর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে দ্রুতই তিনি আলোচনায় আসেন।
একইভাবে কর্মসংস্থানের প্রশ্নেও সরব এই ছাত্রনেত্রী। তরুণদের চাকরির সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে বারবার তরুণদের অধিকার এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহির প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।
নির্বাচনী ব্যবস্থা ও ভোটাধিকার নিয়েও আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন নেহা। এসব কর্মসূচিতে পুলিশের বাধার মুখেও তাঁর সক্রিয় উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের ব্যারিকেডে উঠে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানানোর ঘটনাও তাঁকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে।
আন্দোলনের পথ অবশ্য তাঁর জন্য সহজ ছিল না। বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে তাঁর গায়ে কালি ছুড়ে মারার ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। এসব ঘটনার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান ধরে রেখেছেন নেহা।
তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য পর্যায়ের ক্ষমতাসীন নেতৃত্বকেও সরাসরি প্রশ্ন করতে দেখা গেছে তাঁকে। ফলে ছাত্ররাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরেও তাঁর নাম আলোচিত হচ্ছে।
তবে নেহা বোরাকে ঘিরে আলোচনা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে নয়। এর সঙ্গে ভারতের তরুণদের একটি অংশের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টিও যুক্ত। এসব ইস্যুকে সামনে রেখে তিনি যে রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলছেন, সেটিই তাঁকে অন্য অনেক ছাত্রনেতার চেয়ে আলাদা পরিচিতি এনে দিচ্ছে।
একদিকে বামপন্থী রাজনৈতিক বিশ্বাস, অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের প্রকাশ্যে প্রশ্ন করার প্রবণতা—এই দুইয়ের সমন্বয়ে নেহা বোরা ভারতের ছাত্র আন্দোলনের আলোচিত মুখ হয়ে উঠছেন। তাঁর আন্দোলনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা সময়ই বলবে। তবে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ভোটাধিকারের মতো ইস্যু সামনে এনে তিনি যে তরুণদের একটি অংশের ক্ষোভ ও দাবিকে প্রকাশ্যে তুলে ধরছেন, সেটি ইতিমধ্যেই তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

