পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসনের উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে জয় নিশ্চিত করেছে বিজেপি। নন্দীগ্রামে দলটির প্রার্থী হাসি রানী রথ এবং রেজিনগরে শাখারভ সরকার প্রতিদ্বন্দ্বীদের বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন। তবে ফলাফল ঘিরে ভোটে অনিয়ম ও ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলো। বিজেপি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলছে, মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই আসনেই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম ভোটার রয়েছেন। বিশেষ করে রেজিনগর মুসলিম-অধ্যুষিত আসন হিসেবে পরিচিত। সেখানে বিজেপির বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতাদের দাবি, সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি অংশও তাদের সমর্থন করেছেন। তবে ভোটের ফল থেকে কোন সম্প্রদায়ের কত শতাংশ ভোট বিজেপি পেয়েছে, তা সরাসরি নির্ধারণ করা যায় না।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর থেকে জয় পেয়েছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। পরে আসন দুটি শূন্য হওয়ায় সেখানে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়। ৬ অক্টোবর ভোট গ্রহণের পর শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোট গণনা শুরু হয়।
গণনার শুরু থেকেই নন্দীগ্রামে এগিয়ে ছিলেন বিজেপির হাসি রানী রথ। প্রথম রাউন্ড শেষে তাঁর ব্যবধান ছিল ৯ হাজার ৬০০ ভোট। এরপর প্রতিটি রাউন্ডে ব্যবধান বাড়তে থাকে। ১৩ রাউন্ড গণনার পর তিনি ১ লাখ ৫ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে যান। পরবর্তী গণনায় তাঁর ব্যবধান আরও বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কংগ্রেসের মিলন প্রধান।
এই ফল আগের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, আগের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে বিজেপির জয়ের ব্যবধান তুলনামূলক অনেক কম ছিল। উপনির্বাচনে সেই ব্যবধান বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় আসনটির ভোটের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
রেজিনগরেও শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন বিজেপির শাখারভ সরকার। গণনার বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর ব্যবধান দ্রুত বাড়তে দেখা যায়। ১২ রাউন্ড শেষে তিনি ৭০ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে যান। তাঁর অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবী আজাদ।
রেজিনগরের ফলাফল বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ আগের বিধানসভা নির্বাচনে এখানে বিজেপি বড় ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল। এবার সেই আসনেই দলটির প্রার্থীর বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়া পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।
তবে উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ ও ফলাফল নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি রয়েছে। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, আইএসএফ, আমজনতা উন্নয়ন পার্টি ও বামপন্থী দলগুলোর পক্ষ থেকে ভোটে অনিয়ম এবং ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে। ভোটের দিনও বিভিন্ন জায়গায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছিল। তবে এসব অভিযোগের সব কটির সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
অন্যদিকে বিজেপি বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির নেতারা এই ফলকে সরকারের কাজ ও উন্নয়নের প্রতি মানুষের সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরছেন। রেজিনগরের ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি নেতৃত্ব সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন পাওয়ার দাবিও করেছে।
দুই আসনের উপনির্বাচনের ফল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন না আনলেও রাজনৈতিকভাবে এর গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে নন্দীগ্রামে বিজেপির ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি এবং মুসলিম-অধ্যুষিত রেজিনগরে দলটির বড় সাফল্য—দুটি বিষয়ই রাজ্যের ভোটের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে বিরোধীদের তোলা অনিয়মের অভিযোগও নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও বাড়িয়েছে।

