চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমূল পরিবর্তনের আশা করা হলেও বাস্তবচিত্র এখনো পুরোনো ধারাতেই আটকে রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিলেও সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষকে শপথ পাঠ করিয়েছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন নেতা ও শিক্ষার্থীরা।
একইভাবে, গত বছরের জুলাইয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইয়াহ্ইয়া আখতারের কার্যালয়ে এক শিক্ষকের পদোন্নতি আটকাতে হট্টগোল করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতা। সে সময় উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে তাঁদের বলতে শোনা যায়, ‘আপনি নিজ যোগ্যতায় বসেননি, আপনাকে আমরা বসিয়েছি, আপনি আমাদের কথা শুনতে বাধ্য।’
সর্বশেষ চট্টগ্রামের আরেকটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যকে বাতিল করে আগের উপাচার্যকে বহাল রাখার দাবিতে শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউন আন্দোলনের মধ্যেই ঘটল ভিন্ন ঘটনা। গত ১২ অক্টোবর ক্ষমতাসীন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।
এ ঘটনাগুলো নির্দেশ করে যে, সরকার কিংবা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক খবরদারির সংস্কৃতি অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে। আইনের তোয়াক্কা না করে উপাচার্যের আসনে কে বসবেন কিংবা কীভাবে কাজ করবেন, তা নির্ধারণে ছাত্রসংগঠনগুলোর এই প্রভাব বিস্তার উচ্চশিক্ষার স্বায়ত্তশাসনকে ক্রমাগত হুমকির মুখে ফেলছে।

