গত জুলাইয়ে ব্রাজিল বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর দেশটিতে একটি আজব ষড়যন্ত্র–তত্ত্ব চালু হয়েছিল—কসমেটিক সার্জারির পর ভিনিসিয়ুস রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন এবং তাঁর বিজ্ঞাপন চুক্তি বজায় রাখতে অবিকল তাঁর মতো দেখতে অন্য কাউকে মাঠে নামানো হচ্ছে! যদিও তখন সেটিকে স্রেফ হাস্যকর তত্ত্ব বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদে ভিনির ভয়াবহ পারফরম্যান্স দেখে ভক্তদের মনে সেই প্রশ্নই ফের ঘুরপাক খাচ্ছে। রিয়ালে গত আট মৌসুমের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বাজে শুরুর মুখে পড়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
চলতি মৌসুমে রিয়ালের হয়ে ১০ ম্যাচে সব মিলিয়ে ভিনির গোল মাত্র ১টি। লা লিগার ৮ ম্যাচে ১ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের ২ ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্ট—কোনোটিই নেই। ফরোয়ার্ডদের প্রধান অস্ত্র ড্রিবলিং ও গোল করার দক্ষতায়ও এসেছে বড় পতন। ২০২২-২৩ মৌসুমে ৯০ মিনিটে তাঁর সফল ড্রিবলিং যেখানে ছিল ৩.৬৭টি, চলতি মৌসুমে তা নেমে এসেছে মাত্র ১.৮৬টিতে। ২৫ শট নিয়ে করেছেন মাত্র ১ গোল, যা তাঁর প্রত্যাশিত গোলের (এক্সজি ৩.১৪) তুলনায় অত্যন্ত হতাশাজনক (মাত্র ৪.৪ শতাংশ রূপান্তর হার)।
গত বৃহস্পতিবার চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমার বিপক্ষে ম্যাচে ৫৯ মিনিটে তাঁকে তুলে নেন কোচ জোসে মরিনিও। ম্যাচ শেষে ভিনি নিজেও স্বীকার করেন যে সেরা ফর্মে না থাকায় তিনি নিজের ওপর বিরক্ত। তবে এই খরা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। তরুণ ফরোয়ার্ড এনদ্রিক এবং দারুণ ছন্দে থাকা আইভরি কোস্টের উইঙ্গার ইয়ান দিওমান্দের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স কোচ মরিনিওর আস্থায় থিতু হতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে লা লিগায় চার ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকায় আসন্ন ‘এল ক্লাসিকো’সহ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে খেলতে না পারা ভিনির জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলছে। আগের মতো ছন্দ ফিরিয়ে এনে একাদশে নিজের জায়গা ধরে রাখাটাই এখন ভিনির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

