খেলোয়াড় হিসেবে কেরিয়ার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার হুমকি, বাঁ হাঁটুতে ১৩টি অস্ত্রোপচার, এমনকি সেপসিসে আক্রান্ত হয়ে পা কেটে ফেলার উপক্রম—সব প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি ব্যালন ডি’অরের বর্ষসেরা নারী কোচের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এলেনা সাদিকু। নারী ও পুরুষ কোচ মিলিয়ে এই তালিকায় তিনিই সবচেয়ে কনিষ্ঠ এবং একমাত্র নারী কোচ।
সাবেক যুগোস্লাভিয়ায় যুদ্ধবিধ্বস্ত দিন পেরিয়ে পরিবারসহ সুইডেনে আশ্রয় নেওয়া এলেনার শৈশব থেকে একমাত্র ধ্যানজ্ঞান ছিল ফুটবল। কিন্তু খেলোয়াড় জীবনে তার হাঁটুতে বারবার এসিএল (ACL) ইনজুরি আঘাত হানে। ১৩ বছর বয়সে মালমোর একাডেমিতে সুযোগ পাওয়া এই খেলোয়াড় ২৩ বছর বয়সেই ১৩ বার হাঁটুর অস্ত্রোপচারের মুখোমুখি হন। ২০১৫ সালে শেষ অস্ত্রোপচারের পর রক্তপ্রবাহে মারাত্মক সেপসিস সংক্রমণ ছড়ালে চিকিৎসকরা সাফ জানিয়ে দেন, পা কেটে ফেলতে হতে পারে। হাসপাতালের বিছানায় ১০ কেজি ওজন হারানো এলেনা মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও ফুটবল ছাড়ার কথা ভাবতে পারেননি।
তবে নিয়তি তাঁর জন্য অন্য চিত্রনাট্য লিখে রেখেছিল। খেলোয়াড় হিসেবে স্বপ্ন ভেঙে গেলেও কোচিংকে নতুন ঠিকানা হিসেবে বেছে নেন এলেনা। সুইডেন ও চীনের বিভিন্ন ক্লাবে কাজ করার পর সেলটিকের নারী দলের দায়িত্ব নেন তিনি। কোচ হিসেবে নিজের প্রথম মৌসুমেই সেলটিককে স্কটিশ প্রিমিয়ার লিগ জিতিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিয়ে যান। এরপর গত বছর সুইডিশ ক্লাব বিকে হ্যাকেনের দায়িত্ব নিয়ে ক্লাবটির ৫৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম ইউরোপিয়ান শিরোপা এনে দেন এই তরুণ কোচ।
ইউরোপীয় ফুটবলে এমন অভাবনীয় সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপই এবার ব্যালন ডি’অরের বর্ষসেরা নারী কোচের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পেলেন এলেনা সাদিকু। ২৩ বছর বয়সে ফুটবল ছাড়তে বাধ্য হওয়া এক তরুণীর এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প আজ বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ক অধ্যায়।

