দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও কমেছে। এ নিয়ে গত চার দিনে টানা তিন দফায় দাম কমল মূল্যবান এই ধাতুর। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ রোববার ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমানো হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা এবং বৃহস্পতিবার ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছিল। সব মিলিয়ে চার দিনের ব্যবধানে প্রতি ভরি সোনার দাম কমল সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১৭৩ টাকা। তবে সোনার দাম কমলেও রুপার দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
আজ রোববার সকাল ১০টা থেকে সোনার নতুন এই দর কার্যকর করা হয়েছে। বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে তেজাবি (পিওর) সোনার মূল্য হ্রাস পাওয়ার কারণে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকায়। আজ দাম কমার আগে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের দর ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের দর ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দর ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।
মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার অব্যাহত দরপতনের প্রভাবই পড়েছে দেশের স্থানীয় বাজারে। আজ আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্সে প্রায় ৪৯ ডলার হ্রাস পেয়েছে এবং রুপার দাম কমেছে ১ ডলার শূন্য ২ সেন্ট। সামগ্রিকভাবে গত এক মাসে বিশ্ববাজারে আউন্সপ্রতি দর কমেছে প্রায় ২১৮ ডলার এবং গত ছয় মাসে কমেছে প্রায় ৬৫১ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত ভূরাজনৈতিক সংকট ও যুদ্ধের পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা ও দাম বৃদ্ধি পেলেও চলমান ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মাঝে ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা যাচ্ছে। এ সময়ে মার্কিন ডলারভিত্তিক ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বা সুদহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা সুদবিহীন সম্পদ সোনার বদলে মার্কিন বন্ড ও ডলারের দিকে ঝুঁকছেন, যা বিশ্ববাজারে সোনার দাম টানা কমার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

