ডেস্ক রিপোর্ট | নাহিদ হাসান
বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারের জন্য দেশেই গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরিতে বিনিয়োগ করতে পারে জাপানি কোম্পানিগুলো। বর্তমানে টয়োটা, হোন্ডা, নিসানের মতো জাপানি ব্র্যান্ডের গাড়ির জন্য দেশ পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপান সফরের আগে বাংলাদেশে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ কাজুইকি কাতাওকা জানান, জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য গাড়ি উৎপাদন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হয়ে উঠতে পারে। তবে শুরুতে আমদানি করা যন্ত্রাংশ দিয়ে গাড়ি সংযোজন করতে হবে, এরপর ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনের দিকে যেতে হবে। তাঁর মতে, প্রতিযোগিতামূলক শিল্প গড়তে শক্তিশালী স্থানীয় সরবরাহ ব্যবস্থা ও উন্নত মানের ইস্পাত দরকার; ইস্পাত, রাসায়নিক ও সূক্ষ্ম প্রকৌশলে সক্ষমতা না বাড়লে সংযোজন থেকে কর্মসংস্থান তৈরি হলেও উৎপাদনের বড় অংশের মূল্য আমদানিনির্ভরই থেকে যাবে।
কাতাওকা জানান, টয়োটা সুশো করপোরেশন ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিক্রয়, সার্ভিসিং ও যন্ত্রাংশের দুটি কেন্দ্র গড়তে ৪ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে, যার নির্মাণকাজ শুরু হবে ২০২৬ সালের নভেম্বরে। পাশাপাশি জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে হাইব্রিড বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির একটি কারখানার পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ২০২৭ সালে এর উন্নয়নকাজ শুরু হয়ে ২০২৯ সালে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। সম্প্রতি টয়োটা, মিৎসুই ও মারুবেনির শীর্ষ নির্বাহীরা বাংলাদেশ সফর করে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।
এদিকে ‘চায়না প্লাস ওয়ান’ নীতির আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে শিল্প সম্পর্ক জোরদারে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১ লাখ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬৩৫ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগে সহায়তা দিতে জাপান প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সই হয়েছে। গত এক দশকে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি তিন গুণের বেশি বেড়েছে, যার বড় অংশই তৈরি পোশাক।

