ডেস্ক রিপোর্ট | নাহিদ হাসান
সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কোনো দুর্বলতা বা অবহেলা ছিল কি না, তা জানতে চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। অবহেলা প্রমাণিত হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেটিও কমিটিকে জানাতে বলা হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ১৪ দিন আগে সৌদি আরব প্রায় আড়াই হাজার বন্দীর একটি তালিকা পাঠিয়েছিল, যাতে ওই দুজনের নামও ছিল। কিন্তু বিষয়টি যথাযথভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা, তালিকায় বন্দীদের যে শ্রেণিতে রাখা হয়েছিল, তা দেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করেছিলেন ছয় মাস থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে; মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি তাঁরা বুঝতে পারেননি।
কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী বৈঠক শেষে বলেন, কনস্যুলেট কেন আগে জানতে পারেনি এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকার পরও দেশটি কেন আগে জানায়নি, সে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁর মতে, পুরো ঘটনায় একটি দুর্বলতা স্পষ্ট। মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের কাছে কয়েকটি প্রশ্নের জবাব চেয়েছে, যা পেলে কমিটিকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রতিবেদন চেয়েছে কমিটি।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদি আরবে নারী কর্মীদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গও ওঠে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি নারী কর্মীদের ১ থেকে ২ শতাংশ নির্যাতনের শিকার হন। এই হার শূন্যে নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।

