দেশের বাজারে আবারও কমেছে সোনার দাম। সোমবার ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সোনার দাম কমানোর তথ্য জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে সোনার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। তবে রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮১৭ টাকা।
এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকা।
দাম কমানোর আগে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ছিল ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকা।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ভালো মানের সোনার দাম প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তার আগে তিন দফায় ভালো মানের প্রতি ভরি সোনার গয়নার দাম মোট ৬ হাজার ৬৫ টাকা কমেছিল। এবার আবার ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হলো।
দেশের বাজারে সোনার দাম সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ওই দিন সকালে একলাফে ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে ভালো মানের সোনার দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় উঠেছিল।
এরপর কয়েক দফায় দাম কমে প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ২০ হাজার টাকার নিচেও নেমে আসে। পরবর্তী সময়ে আবার দাম বাড়তে শুরু করে। সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ে আবার নিম্নমুখী হলো দেশের সোনার বাজার।
বিশ্ববাজারেও কমছে সোনার দাম
দেশের বাজারের পাশাপাশি বিশ্ববাজারেও টানা কয়েক দিন ধরে সোনার দাম কমছে। গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুটির দাম সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। সোমবারও আউন্সপ্রতি সোনার দাম প্রায় তিন ডলার কমেছে।
গোল্ড প্রাইস ডট অর্গের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ৪ হাজার ১৩৫ ডলার। গত সপ্তাহে তা সাত সপ্তাহের সর্বনিম্ন ৪ হাজার ১১০ ডলারে নেমে এসেছিল।
চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৮৯ ডলারে পৌঁছেছিল। সেই তুলনায় বর্তমানে দাম অনেকটাই কমেছে।
গত ৩০ দিনের হিসাবে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে ২৭২ ডলার। আর গত ছয় মাসে কমেছে প্রায় ৫১৭ ডলার।
সাধারণত বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাড়লে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা ও দাম বাড়তে দেখা যায়। তবে এবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উল্টো সোনার দাম কমেছে।
সোনার বাজারে সুদের হারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সোনা থেকে সরাসরি কোনো সুদ পাওয়া যায় না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের মতো সুদভিত্তিক সম্পদে রিটার্ন বাড়লে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ সোনা থেকে অন্য বিনিয়োগে ঝুঁকতে পারেন। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার চাহিদা ও দামের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।


