চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তি সই হয়েছে। এ চুক্তির বিরোধিতা করে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন সিপিবি, বাসদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় বলে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ। চুক্তি সই এবং এর বিরোধিতায় বামপন্থি দল ও সংগঠনগুলোর অবস্থানের তথ্য সমসাময়িক প্রতিবেদনেও এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা দুইটা থেকে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান ও বক্তব্য দেন।
বেলা পৌনে তিনটার দিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা। সিপিবির দাবি, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল এবং পুলিশের লাঠিপেটায় দলের সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দনসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
এদিকে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি পরিচালনার কনসেশন চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ১৫ বছর টার্মিনালটি পরিচালনা করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের পক্ষ থেকে এনসিটি নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদ জানাতে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন।
চুক্তিটি বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সাজ্জাদ জহির। তবে তাঁর এই দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য আলোচ্য সূত্রে দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও দাবি করেন, এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া হলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বন্দর ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে এর আগেও বন্দর শ্রমিক ও বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ করেছে। চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো।
চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার টার্মিনালগুলোর একটি এনসিটি। গত অর্থবছরে এই টার্মিনালের মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছে, যা বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ।
চুক্তির বিরোধিতাকারীরা জাতীয় স্বার্থ, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার বিষয় সামনে এনে আপত্তি জানিয়ে আসছেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক অপারেটরের ব্যবস্থাপনায় এনসিটির সক্ষমতা বাড়ানো এবং জাহাজ ও কনটেইনার ব্যবস্থাপনায় সময় কমানো সম্ভব হবে।

