চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের আকাশে ঘটে যাওয়া একটি ছোট উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা এখনো রহস্যে ঘেরা। গত ২৬ জুন একটি এক ইঞ্জিনের দুই আসনবিশিষ্ট স্পোর্টস উড়োজাহাজ শহরের পূর্ব থার্ড রিং রোডের কাছে একটি আকাশচুম্বী ভবনে আছড়ে পড়ে। এতে পাইলট নিহত হন এবং ভবনের বাইরে অন্তত ১৩ জন আহত হন। দুর্ঘটনার এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কীভাবে বিমানটি বিশ্বের অন্যতম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় প্রবেশ করল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
ছবি, ভিডিও এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া গেছে, উড়োজাহাজটি বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ ভবনগুলোর একটি সিআইটিআইসি টাওয়ারে আঘাত হানে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি শিফোসি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছিল এবং রাডারে শেষবার দেখা যায় দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে। এরপর হঠাৎ করেই এর সিগন্যাল হারিয়ে যায়। সরকারি সময়সূচি ও রাডারের তথ্যের মধ্যে কিছু অসঙ্গতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যদিও এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
দুর্ঘটনার কয়েক দিন পর পাইলটের পরিচয় প্রকাশ করে চাওইয়াং জেলা কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, ৬৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা ও হতাশায় ভুগছিলেন এবং তাঁর ব্যক্তিগত ডায়েরিতে আত্মহত্যার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সরকারি দাবি অনুযায়ী, তিনি অনুমোদিত আকাশপথ থেকে সরে গিয়ে ভবনে আঘাত করেন। তবে তদন্ত এখনো চলমান থাকায় এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
এই দুর্ঘটনার পর চীনের দ্রুত সম্প্রসারণশীল স্বল্প উচ্চতার বিমান চলাচল খাতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকটি পর্যটন ফ্লাইট অপারেটর সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে এবং সম্ভাব্য নতুন নিরাপত্তা নির্দেশনার অপেক্ষা করছে। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্ঘটনা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও সেসবের অনেক মন্তব্য দ্রুত সরিয়ে ফেলার অভিযোগও সামনে এসেছে। ফলে বেইজিংয়ের এই বিমান দুর্ঘটনাকে ঘিরে রহস্য এখনো পুরোপুরি কাটেনি।



