ছোটবেলায় মিরান্ডা ওয়ারবির খুব ইচ্ছা ছিল নিজের একটি ঘোড়া থাকবে। মা-বাবার কাছে সেই আবদারও করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের উত্তর ছিল সোজাসাপটা—‘না’। আসল ঘোড়া না পাওয়ার সেই আক্ষেপই একসময় তাঁকে এমন এক শখের দিকে নিয়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত জায়গা করে দিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।
যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা মিরান্ডা আসল ঘোড়ার পরিবর্তে ভালোবাসতে শুরু করেন প্লাস্টিকের খেলনা ঘোড়া ‘মাই লিটল পনি’। শুরুটা হয়েছিল গোলাপি রঙের ‘স্নোফ্লেক’ নামের একটি খেলনা দিয়ে। এরপর একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে শত শত—বছরের পর বছর ধরে বাড়তে থাকে তাঁর সংগ্রহ।
এখন মিরান্ডার সংগ্রহে রয়েছে ৪ হাজার ৫৫০টি ‘মাই লিটল পনি’। এই বিশাল সংগ্রহের কারণেই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম উঠেছে তাঁর।
তবে এত বড় সংগ্রহ একদিনে তৈরি হয়নি। মিরান্ডা জানিয়েছেন, কিছু খেলনা তিনি নিজের পছন্দে কিনেছেন, আবার অনেকগুলো পেয়েছেন উপহার হিসেবে। সময়ের সঙ্গে খেলনা ঘোড়া সংগ্রহ করা তাঁর অন্যতম প্রধান শখে পরিণত হয়।
সংগ্রহের পরিধি সবচেয়ে বেশি বাড়তে শুরু করে নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে। ১৯৯৭ সালের দিকে ইন্টারনেট সহজলভ্য হতে শুরু করলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা ‘মাই লিটল পনি’ সম্পর্কে জানতে পারেন মিরান্ডা। এরপর বিভিন্ন দেশের দুর্লভ খেলনা খুঁজে সংগ্রহ করা শুরু করেন।
মিরান্ডার ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলায় তাঁর ইচ্ছা ছিল সব ধরনের খেলনা ঘোড়াই সংগ্রহ করবেন। কিন্তু তখন অনেক খেলনা শুধু নির্দিষ্ট কিছু দেশে পাওয়া যেত। ইন্টারনেটের মাধ্যমে যখন বুঝতে পারেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা সেসব খেলনাও সংগ্রহ করা সম্ভব, তখন তাঁর শখটি আরও গুরুত্ব পেতে শুরু করে। ১৯৯৭ সাল থেকেই নিয়মিতভাবে সংগ্রহ বাড়াতে থাকেন তিনি।
একপর্যায়ে খেলনার সংখ্যা এত বেড়ে যায় যে সেগুলো রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ২০১৮ সালে পুরো সংগ্রহ সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখার জন্য আরও বড় একটি বাড়িতে চলে যেতে হয় মিরান্ডাকে।
হাজার হাজার খেলনার মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত দুর্লভ কিছু পনিও। তাঁর সংগ্রহের সবচেয়ে দুর্লভ খেলনাগুলোর একটি থাইল্যান্ডে তৈরি ‘ফায়ারবল’ নামের পনি। মিরান্ডার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরো বিশ্বে এ ধরনের খেলনা মাত্র দুটি রয়েছে।
তবে দুর্লভ কিংবা দামি খেলনা নয়, তাঁর সবচেয়ে প্রিয় পনিটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শৈশবের স্মৃতি। পাঁচ বছর বয়সে পাওয়া ‘মেগান অ্যান্ড সানড্যান্স’ এখনো তাঁর সবচেয়ে পছন্দের। ছোটবেলার স্মৃতি ও আবেগের কারণেই হাজার হাজার পনির মধ্যেও সেটির জায়গা আলাদা।
মিরান্ডা মনে করেন, শৈশবের প্রতি টান এবং স্মৃতিকাতরতাই এত বছর পরও খেলনা ঘোড়াগুলোর প্রতি তাঁর ভালোবাসা ধরে রেখেছে। বয়স বাড়লেও ছোটবেলার সেই আনন্দ হারিয়ে যায়নি; বরং সময়ের সঙ্গে সংগ্রহটি আরও বড় হয়েছে।
আর বিশ্ব রেকর্ড গড়েই থামতে চান না মিরান্ডা। এখনো পছন্দের তালিকায় নতুন কোনো খেলনা ঘোড়ার সন্ধান পেলে সেটি সংগ্রহের চেষ্টা করেন। নিজের শখ নিয়ে অন্যদেরও সংকোচ না করার পরামর্শ তাঁর।
যে গল্পের শুরু হয়েছিল মা-বাবার একটি ‘না’ দিয়ে, সেটিই শেষ পর্যন্ত মিরান্ডার জীবনে এনে দিয়েছে বিশ্ব রেকর্ডের স্বীকৃতি। ছোটবেলায় আসল ঘোড়া না পেলেও ৪ হাজার ৫৫০টি খেলনা ঘোড়ার বিশাল সংগ্রহ এখন তাঁকে পরিচিত করেছে বিশ্বজুড়ে।


