সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা থেকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে দুই শতাধিক চাকরিপ্রার্থী অংশ নিয়েছেন।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও ভেরিফিকেশনের কারণে তাঁদের অনেকেই নিয়োগপত্র পাননি। বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন প্রার্থীরা।
কর্মসূচিতে অংশ নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে আসা চাকরিপ্রার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে থাকেন। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে যান তাঁরা। সেখানে দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবিতে অবস্থান শুরু করেন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া আল মামুন বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তাঁরা অধিকারবঞ্চিত হয়েছেন। অনেক কষ্ট ও সংগ্রামের পর নিয়োগের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছেন তাঁরা। তাই বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।
কর্মসূচিতে অংশ নিতে রাজশাহীর বাগমারা থেকে ১৫ মাস বয়সী সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় এসেছেন মোসা. খাদিজা বানু। তাঁর ভাষ্য, ছোট সন্তান থাকা সত্ত্বেও দাবি আদায়ের আশায় তাঁকে রাজপথে আসতে হয়েছে। রাতে কোথায় থাকবেন, সেটিও জানেন না। তবে প্রয়োজন হলে রাজপথে থাকার প্রস্তুতি নিয়েই ঢাকায় এসেছেন।
প্রার্থীদের মূল দাবি, ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া ব্যক্তিদের নথি মানবিক ও ন্যায়সংগতভাবে আবার পর্যালোচনা করতে হবে। পাশাপাশি তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে নিয়োগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। এর আগে তাঁরা আটকে থাকা নিয়োগপত্র দ্রুত দেওয়াসহ কয়েকটি দাবি জানিয়েছিলেন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছিল গত ৮ ফেব্রুয়ারি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ওই সময় আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত পর্যায়ে যায়।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। তবে ভেরিফিকেশনের প্রতিবেদন ইতিবাচক হওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় অনেক প্রার্থী নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও বক্তব্য এসেছে। শনিবার জানানো হয়, ১ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো উত্তীর্ণ প্রার্থী নিয়োগপত্র না পেলে তাঁর বিষয়টি পরবর্তী সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিংকে নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আন্দোলনকারীরা দ্রুত তাঁদের অনিশ্চয়তা দূর করার দাবি জানাচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য, চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি এবং ভেরিফিকেশনে কী কারণে বাদ পড়েছেন, সে বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন।
এই দাবিতেই শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন প্রার্থীরা। ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা এবং দ্রুত নিয়োগের সুযোগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।



