ভারতের কলকাতায় আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশের নাগরিক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বুধবার দুপুরে কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে চারজন কুষ্টিয়ার এবং একজন ঢাকার সাভারের বাসিন্দা। তাঁদের পরিচয় স্থানীয় পুলিশ ও বাংলাদেশের উপহাইকমিশনের কর্মকর্তারা যৌথভাবে নিশ্চিত করেছেন।
নিহত পাঁচ বাংলাদেশি হলেন—কুষ্টিয়ার দেবাশিস দত্ত, আফসানা শিম্মিন, শর্ণশিষ দত্ত, মো. আকরাম আলী এবং ঢাকার সাভারের আহমেদ বাবু।
কলকাতার নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পরপরই হতাহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তে কাজ শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন।
বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ জানান, উপহাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল, থানা ও মর্গে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় পরে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত অন্য ব্যক্তিদের মধ্যে আরও কোনো বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত হলেও নিহতের তালিকা সম্পূর্ণভাবে যাচাইয়ের কাজ চলছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানির খবর পাওয়ার পরপরই কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহত ও আহতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি বলে স্থানীয় পুলিশ নিশ্চিত করেছে। বাকি চারজনের পরিচয় এখনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করতে পারেনি।
অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয় বাংলাদেশি নাগরিককেও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ।
তবে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে এই মুহূর্তে নিশ্চিত কোনো তথ্য সামনে আসেনি। আগুনের কারণ জানতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকা বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছেও পরিচিত একটি স্থান। কেনাকাটা, চিকিৎসা ও বিভিন্ন কাজে নিয়মিত বাংলাদেশিরা কলকাতায় যাতায়াত করেন। ফলে এই অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের মরদেহ বাংলাদেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া কীভাবে হবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
অন্যদিকে আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যও সংগ্রহ করছে উপহাইকমিশন। তাঁদের মধ্যে কেউ দেশে ফেরার জন্য সহায়তা চাইলে সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া পাঁচ বাংলাদেশির পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিদেশের মাটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তাঁদের মৃত্যু নতুন করে নিরাপদ আবাসন ও হোটেল ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন সামনে এনেছে।
তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
কলকাতার এই ঘটনায় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নিহতদের পরিচয় ও সংখ্যা পুরোপুরি নিশ্চিত করা, আহতদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
বাংলাদেশের উপহাইকমিশন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী তদন্তে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

