বয়স ৬০ পেরিয়েছে। তবু কর্মব্যস্ততা কিংবা শারীরিক সক্ষমতায় বয়সের ছাপ খুব একটা দেখা যায় না নীতা আম্বানির মধ্যে। কখনো ক্রিকেট মাঠে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে দেখা যায় তাঁকে, আবার কখনো মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করেন। এত ব্যস্ততার মধ্যেও কীভাবে নিজেকে ফিট ও প্রাণবন্ত রাখেন—এ নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল রয়েছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ফিটনেস ও জীবনযাপনের অভ্যাস নিয়ে কথা বলেছেন ভারতীয় শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির স্ত্রী নীতা আম্বানি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ফিট থাকা মানে শুধু নিয়মিত জিমে যাওয়া নয়। বরং শরীরচর্চা, নাচ, হাঁটা ও সুষম খাদ্যাভ্যাসকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে নেওয়াই তাঁর ফিটনেস রুটিনের মূল ভিত্তি।
নীতা জানান, সপ্তাহে পাঁচ থেকে ছয় দিন শরীরচর্চা করেন তিনি। তবে প্রতিদিন একই ধরনের ব্যায়াম করেন না। শরীরের বিভিন্ন অংশের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যায়ামের ধরন পরিবর্তন করেন। আর তাঁর সবচেয়ে পছন্দের ব্যায়ামের দিন ‘লেগ ডে’।
এর পেছনে নাচেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। নীতা বলেন, ‘লেগ ডে আমার সবচেয়ে প্রিয়। একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবে আমার পা দুটো শক্তিশালী হওয়া ভীষণ জরুরি।’
মাত্র ছয় বছর বয়স থেকে ভরতনাট্যম শেখা শুরু করেন নীতা। দীর্ঘদিন ধরে নাচের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাঁর শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও নাচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি প্রতিদিন প্রায় এক ঘণ্টা নাচের অনুশীলন করেন তিনি।
শুধু শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম কিংবা নাচেই তাঁর ফিটনেস রুটিন সীমাবদ্ধ নয়। যোগব্যায়াম এবং শরীরের নমনীয়তা বাড়ানোর বিভিন্ন অনুশীলনও করেন তিনি। পেটের পেশি শক্ত রাখার ব্যায়ামের পাশাপাশি সাঁতার ও পানিতে শরীরচর্চাও তাঁর রুটিনের অংশ।
সক্রিয় থাকার জন্য নিয়মিত হাঁটার অভ্যাসও রয়েছে নীতা আম্বানির। প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার পা হাঁটার চেষ্টা করেন তিনি। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের শরীরচর্চার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনেও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার দিকে তাঁর নজর থাকে।
ফিটনেস ধরে রাখতে ব্যায়ামের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসকেও গুরুত্ব দেন নীতা। তিনি পুরোপুরি নিরামিষভোজী। খাবারের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক ও জৈব খাবারকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নীতা বলেন, ‘আমার ডায়েট খুব সুষম। আমি নিরামিষ খাই। আমি অর্গানিক খাবারই বেশি খাই।’
খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখার বিষয়েও সচেতন তিনি। একই সঙ্গে চিনি এবং চিনির বিকল্প এড়িয়ে চলার কথা জানিয়েছেন নীতা। অর্থাৎ তাঁর ফিটনেস পরিকল্পনায় নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি খাবারের ধরন ও পুষ্টির দিকেও বিশেষ নজর রয়েছে।
তবে নীতা আম্বানির কাছে ফিটনেসের অর্থ কেবল শরীরকে নির্দিষ্ট গড়নে রাখা নয়। মানসিকভাবে ভালো থাকাকেও তিনি এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, নিয়মিত ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে, এন্ডোরফিনের ক্ষরণ বাড়াতে এবং মন চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে।
বয়স বাড়ার বিষয়টিকেও ইতিবাচকভাবে দেখেন নীতা। বয়সের সঙ্গে লড়াই করার পরিবর্তে সেটিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার কথাই বলেছেন তিনি। নিজের দর্শন তুলে ধরে তাঁর ভাষ্য, ‘এটা বয়সের সঙ্গে লড়াই করার বিষয় নয়, বয়সকে আপন করে নেওয়ার বিষয়।’
নিজেকে সক্রিয় রাখার পেছনে ব্যক্তিগত একটি অনুপ্রেরণার কথাও জানিয়েছেন নীতা। নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দৌড়ে বেড়াতে এবং তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানোর মতো শারীরিক সক্ষমতা ও সহনশক্তি ধরে রাখতে চান তিনি।
অন্যদেরও নিজের জন্য নিয়মিত কিছুটা সময় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন নীতা আম্বানি। শুরুতেই কঠিন বা দীর্ঘ সময়ের ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই বলেও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে। তাঁর পরামর্শ, ‘নিজের জন্য সময় বের করুন। নিজেকে গুরুত্ব দিন। নিজের জন্য এগিয়ে আসুন। আর শুরুটা হোক ছোট করেই। দিনে মাত্র ৩০ মিনিট, সপ্তাহে চারদিন।’
নীতা আম্বানির ফিটনেস রুটিনে তাই কোনো একটি ব্যায়াম বা খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভরতার কথা উঠে আসেনি। বরং নিয়মিত শরীরচর্চা, নাচ, হাঁটা, যোগব্যায়াম, সাঁতার, সুষম খাবার এবং নিজের জন্য সময় রাখার সমন্বয়েই তিনি সক্রিয় জীবনযাপন ধরে রাখার কথা জানিয়েছেন।


