মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করা, নির্ধারিত সময়ে চার্জশিট দাখিল এবং মেডিকেল ও ফরেনসিক প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকার পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে। একই সঙ্গে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে আদালত, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির আয়োজনে এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম।
ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের সঞ্চালনায় জেলার মামলা নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান।
কনফারেন্সে মামলার তদন্ত কার্যক্রমে গতি আনা এবং সময়মতো চার্জশিট দাখিলের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় মেডিকেল ও ফরেনসিক প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে পাঠানো, আলামত যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং আসামিদের সময়মতো আদালতে উপস্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন–সংক্রান্ত মামলাগুলোর অগ্রগতিও আলোচনায় আসে। জানানো হয়, ঢাকা জেলা জজ আদালতে এ ধরনের মাত্র চারটি মামলা বিচারের জন্য এসেছে। এসব মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে আইন অনুযায়ী চার্জশিট দাখিলের জন্য জেলার থানাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়ে পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে তদন্তে কোনো আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের পর্যাপ্ত ভিত্তি না পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
ভিকটিমদের মেডিকেল সার্টিফিকেট ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পেতে বিলম্বের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে হত্যা মামলায় সুরতহাল প্রতিবেদন, জব্দ তালিকা ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সময়মতো আদালতে না পৌঁছানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মামলা হওয়ার পরপরই সুরতহাল প্রতিবেদন ও জব্দ তালিকা এবং পরবর্তী সময়ে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন যথাসময়ে আদালতে পাঠানোর তাগিদ দেওয়া হয়।
ডিজিটাল আলামত ও ইলেকট্রনিক সাক্ষ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও তদন্ত কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সিসি ক্যামেরার ডিভিআরসহ সংশ্লিষ্ট ডিভাইস যথাযথভাবে জব্দ এবং মোবাইল ফোন জব্দের সময় সিমের তথ্য ও আইএমইআই নম্বর সঠিকভাবে নথিভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি ও স্বীকারোক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনগত শর্ত, স্বেচ্ছাস্বীকৃতি এবং নির্ধারিত পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণের কথা বলা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল না হওয়ার বিষয়েও কনফারেন্সে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। দ্রুত পরোয়ানা কার্যকর এবং সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ রিপোর্ট দাখিলের পর আসামির নাম বা ঠিকানায় ভুল পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় মূল অভিযোগপত্রে থাকা কোনো আসামি যেন বাদ না পড়েন, সে বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
কনফারেন্সে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের চারটি লিফটের নিম্নমান ও ঘন ঘন বিকল হওয়ার অভিযোগও উঠে আসে। বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী এবং আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের দাবি জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ ছাড়া বিশুদ্ধ ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় পর্যাপ্ত পুলিশি সহায়তা, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা এবং আদালতে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটরদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কনফারেন্সে ঢাকার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন, সিআইডির পুলিশ সুপার, জেল সুপার, সিভিল সার্জন, বিভিন্ন হাসপাতালের প্রতিনিধি, থানার অফিসার ইনচার্জ, আইনজীবী ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


