পাকিস্তানের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘দার-ই-নাজাত’-এর ১৩তম পর্ব ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা। বিশেষ করে জামিল চরিত্রের সিদ্ধান্ত ও কথাবার্তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দর্শকেরা। অন্যদিকে জারিয়াব চরিত্রে দুরে ফিশান সেলিমের আবেগঘন অভিনয় পাচ্ছে প্রশংসা।
গল্পে দেখা যায়, শৈশবের ভালোবাসার মানুষ জারিয়াবের সঙ্গে কয়েক বছরের সম্পর্ক ছিল জামিলের। একসময় তাঁরা একসঙ্গে বসবাসও করেছেন। কিন্তু হঠাৎ জারিয়াবকে কিছু না জানিয়েই এক মাদ্রাসার নারীকে বিয়ে করেন জামিল।
সম্পর্ক ভাঙার কারণ জানতে জামিলের কাছে হাজির হন জারিয়াব। তখন জামিল জানান, জারিয়াবের সঙ্গে কাটানো সময়কে তিনি এখন নিজের ‘অজ্ঞতার সময়’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর দাবি, সামনে এগিয়ে যেতে এমন একজন জীবনসঙ্গী প্রয়োজন, যিনি তাঁকে ধর্মের পথে চলতে সাহায্য করবেন এবং যিনি ধার্মিক ও পবিত্র।
এমন কথা শুনে জারিয়াব প্রশ্ন তোলেন—তওবা করার অধিকার কি শুধু পুরুষের? তবে সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে জামিল একজন ধার্মিক স্ত্রীর কী কী গুণ থাকা প্রয়োজন, তা বলতে থাকেন। একই সঙ্গে জারিয়াবের মধ্যে সেই গুণ নেই বলেও মন্তব্য করেন।
এই দৃশ্যের পরই দর্শকদের বড় একটি অংশ জামিলের আচরণকে দ্বিচারিতা হিসেবে দেখছেন। কারণ, দীর্ঘদিন সম্পর্কে থাকার পর নিজের অতীত থেকে সরে এসে সেই একই অতীতের জন্য জারিয়াবকেই অযোগ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
পর্বটিতে দুরে ফিশান সেলিমের অভিনয়ও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। হৃদয়ভাঙা জারিয়াবের কষ্ট, ক্ষোভ ও অসহায়ত্ব তিনি পর্দায় বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন বলে প্রশংসা করছেন দর্শকেরা।
গল্পে আরও জানা যায়, জামিল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ব্যর্থ হওয়ার পর তাঁকে সান্ত্বনা দিতে নিজের হার্ভার্ডে পড়ার সুযোগ পর্যন্ত ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন জারিয়াব। অথচ শেষ পর্যন্ত সেই জারিয়াবকেই ধর্ম ও নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে প্রত্যাখ্যান করেন জামিল। আর এই ঘটনাই ‘দার-ই-নাজাত’-এর নতুন পর্বকে দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

