শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩, ৭ রবিউস সানি ১৪৪৮

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক কিশোরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতীমের সঙ্গে ওই কিশোরকে দেখা গেছে বলে জানা গেছে।

শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর কোটবাড়ী এলাকা থেকে ওই কিশোরকে আটক করা হয়। তবে পুলিশ এখনো তাকে এই ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেনি। তদন্তের স্বার্থে সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান শনিবার বিকেল চারটার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। সে কুমিল্লার কোটবাড়ীর বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত তার সঙ্গে থাকা ফোনটির অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন গন্ধমতি এলাকায় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। পরে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সন্তানের খোঁজ না পেয়ে অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর পরিবারের সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় তার সন্ধান শুরু করেন।

শনিবার দুপুরের দিকে সানন্দা এলাকার জঙ্গলে একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি অপ্রতীমের বলে শনাক্ত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে ঠিক কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এ কারণে ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে—এমন একটি সম্ভাবনা প্রাথমিকভাবে আলোচনায় এলেও পুলিশ এখনো হত্যার উদ্দেশ্য বা ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো তথ্য দেয়নি।

এখন তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে নিখোঁজ হওয়ার আগে অপ্রতীম কোথায় কোথায় গিয়েছিল এবং কার কার সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। এ জন্য আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে একটি ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে অপ্রতীমের সঙ্গে যে কিশোরকে দেখা গেছে, তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

তবে শুধু সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতীমের সঙ্গে দেখা যাওয়ার ভিত্তিতে ওই কিশোরকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলা হচ্ছে না। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য আলামত মিলিয়ে দেখার পরই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অপ্রতীমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনে কারও অপরাধমূলক সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখন পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: শিহাব আহমেদ

Sokal News | সকাল নিউজ is a youth-led online news and media portal dedicated to delivering accurate, timely, and impactful news. Driven by a passion for truth and transparency, our mission is “সত্যের আলোয় প্রতিদিন” (“In the light of truth, every day”). Stay connected with us for trustworthy news coverage from a fresh perspective.

প্রধান কার্যালয়:
সকাল নিউজ, ই-১৭/৬, চায়না টাউন, ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০

© 2026 সকাল নিউজ. সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত Shihab Group.
Exit mobile version