পাবনা শহরে মিছিলের প্রস্তুতির সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা কমিটির সভাপতি আবদুল ওহাবসহ ১৫ জনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে শহরের আবদুল হামিদ সড়কের ইন্দিরা মোড় এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, তাঁরা শহরে নাশকতার পরিকল্পনা ও মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুস সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটক ব্যক্তিরা একটি মাইক্রোবাসে করে শহরে এসেছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল শহরে মিছিল করা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নেওয়া। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে। তবে আবদুল ওহাব ছাড়া আটক অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আটকের পর তাঁদের পাবনা সদর থানায় নেওয়া হয়। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। মামলা হলে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর কথা রয়েছে।
আবদুল ওহাব এর আগেও একাধিকবার পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সুজানগর উপজেলার মথুরাপুর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করেছিল পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে পুলিশ ভ্যানে তোলার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাঁকে ছিনিয়ে নেন। ওই ঘটনায় আট পুলিশ সদস্য আহত হয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছিল। ঘটনার তিন দিন পর, ৫ ফেব্রুয়ারি, আবদুল ওহাবকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্ত হন তিনি। পুলিশের দাবি, মুক্তির পর আবদুল ওহাব ও তাঁর সমর্থকেরা সুজানগর এলাকায় আবার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেন।
এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল রাতে মথুরাপুর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। ওই অভিযানে আবদুল ওহাবসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ২১ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ পর তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।
এরপর বুধবার সকালে আবারও আটক হলেন আবদুল ওহাব। পুলিশের দাবি, এবার তাঁর সঙ্গে আরও নেতা-কর্মী শহরে এসে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। একই সঙ্গে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগও করেছে পুলিশ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আটক ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আটকের সংখ্যা নিয়ে কয়েকটি প্রতিবেদনে সামান্য ভিন্নতা রয়েছে। অধিকাংশ প্রতিবেদনে আবদুল ওহাবসহ ১৫ জনের কথা বলা হলেও কয়েকটি প্রতিবেদনে সংখ্যাটি ১৪ বা ১৪ থেকে ১৫ জন বলা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। মামলা ও পরবর্তী তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



