বাঁকানো লাল ঠোঁট, গলায় কালো দাগ আর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি—অবয়বে পরিচিত দেশি সবুজ টিয়ার মতো হলেও এর পালকের রং ভিন্ন। সবুজ নয়, পুরো শরীরজুড়ে ছড়িয়ে আছে নজরকাড়া হালকা বেগুনি আভা। রাজধানীর মিরপুরের শাহআলী মাজারের পোষা পাখির হাটে সম্প্রতি এমন এক জোড়া বিদেশি টিয়ার দাম চাওয়া হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
পাখিটির নাম ‘রিংনেক ভায়োলেট’। দেখতে সাধারণ রিংনেক প্যারাকিটের মতোই হলেও কেবল পালকের এই বিরল রঙের কারণেই পাখিপ্রেমীদের কাছে এর আকাশচুম্বী কদর। রাজধানীর কাটাবনের বাজারেও এই রঙের পাখি প্রতি জোড়া দেড় থেকে আড়াই লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ভায়োলেটের মধ্যে ‘অপালাইন’ জাতের বিরল পাখির দাম বাংলাদেশে জোড়াপ্রতি ৪ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রিংনেক ভায়োলেট মূলত রিংনেক প্যারাকিটের একটি জিনগত মিউটেশন (রঙের পরিবর্তন)। প্রকৃতিতে পাখির জিনগত বৈচিত্র্য থেকে আসা এই রঙের পার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে প্রজননকারীরা বিশেষ রঙের পাখি বেছে নিয়ে কয়েক প্রজন্ম ধরে নিয়ন্ত্রিত প্রজনন করান। ফলে লুটিনো, ব্লু ভায়োলেট, অ্যালবিনো, ক্লিয়ারফেস ও বাটার কাপসহ নানা রঙের রিংনেক তৈরি হয়। তবে প্রজনন করালেও প্রতিবার কাঙ্ক্ষিত রঙের বাচ্চা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। একটি পাখি বছরে সর্বোচ্চ তিনবার প্রজনন করে ৪ থেকে ৬টি ডিম দিলেও নির্দিষ্ট রঙের সরবরাহ থাকে খুবই সীমিত।
আকাশছোঁয়া দামের পেছনে সীমিত প্রজননের পাশাপাশি দেশে বৈধভাবে আমদানির সুযোগ না থাকাকেও মূল কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। বন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বন্য রিংনেক প্যারাকিট এবং খাঁচায় পালা এই মিউট্যান্ট পাখির বৈজ্ঞানিক নাম একই। দেশীয় সবুজ টিয়া ধরা ও খাঁচায় পোষা বন্য প্রাণী আইনে নিষিদ্ধ হওয়ায় বিভ্রান্তি এড়াতে একই বৈজ্ঞানিক নামের এই বিদেশি পাখিগুলো আমদানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে বন বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে খাঁচায় ব্রিড করা এই ধরনের বিদেশি মিউট্যান্ট পাখি পোষা আইনত সম্পূর্ণ বৈধ।
আমদানি বন্ধ থাকা এবং স্থানীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত প্রজননে কাঙ্ক্ষিত রঙের পাখির সংকট থাকায় বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম। ফলে পালকের এই বিশেষ বেগুনি আভার শখের টিয়া কিনতে এখন পাখিপ্রেমীদের গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।


