ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে পোর্টসমাউথের মাঠ ফ্র্যাটন পার্কে চরম নাটকীয়তা ও বিতর্কের ম্যাচে ৩–২ গোলে হেরেছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে সমতায় ফিরেছিল শেফিল্ড। তবে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে হারের পাশাপাশি প্রথমার্ধে বাংলাদেশ জাতীয় দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর বিতর্কিত লাল কার্ড ম্যাচটিকে ঘিরে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
ম্যাচের ৪৪ মিনিটেই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় হামজাকে। ফলে ম্যাচের অর্ধেকেরও বেশি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় শেফিল্ড। ৯ মিনিটের ব্যবধানে পোর্টসমাউথ উইঙ্গার রায়ান কাভুমা–ম্যাককুইনকে দুবার ফাউল করায় তাঁকে মাঠ থেকে বের করে দেন রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ড। তবে হামজাকে দেখানো দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচ শেষে রেফারির ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শেফিল্ড কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার।
ঘটনাটি ঘটেছিল যখন চেলসি থেকে ধারে পোর্টসমাউথে খেলা রায়ান হামজাকে নাটমেগ করার চেষ্টা করতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যান। কোচ ওয়াইল্ডারের দাবি, রেফারি ল্যাংফোর্ড শুরুতে হামজাকে লাল কার্ড দেখাবেন না বলে মৌখিকভাবে জানালেও মুহূর্তের মধ্যেই সিদ্ধান্ত বদলে তাঁকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড প্রদর্শন করেন।
রেফারির এই পক্ষপাতমূলক ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ওয়াইল্ডার ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “হামজা মাঠে আর কোথায় যাবে? সে কি মিস্টার ক্লেপলের মতো কোনো অদৃশ্য চরিত্র যে ধাক্কা এড়াতে হুট করে বাতাসে মিলিয়ে যাবে? পুরো ম্যাচেই এমন ধাক্কাধাক্কি চলছিল। আমাদের স্যাম ম্যাককালামকেও তিন-চারবার একইভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে, অথচ রেফারি ভিন্ন আচরণ করলেন।”
প্রথমার্ধের শেষ দিকে হামজা মাঠ ছাড়ার পর ৫৪ মিনিটে ২–০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল শেফিল্ড। সেখান থেকে ১০ জনের দল নিয়েই অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচে ২–২ সমতা ফেরায় তারা। কিন্তু লড়াইয়ের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে ৮৯ মিনিটে পোর্টসমাউথের জয়সূচক গোলে শেষ পর্যন্ত খালি হাতেই ফিরতে হয় ক্রিস ওয়াইল্ডারের শিষ্যদের।



