কেউ হাসতে বললেই কি মেজাজ চড়ে যায়, সামান্য কথাতেই পেয়ে বসে রাগ, আর চারপাশের সবকিছুতেই মনে হয় ভুলের সমাহার? এমন অস্বস্তিকর দিন কমবেশি সবার জীবনেই আসে। তবে সারাক্ষণ জোর করে হাসিখুশি মুখ বানিয়ে রাখতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। মন খারাপ বা বিরক্তি প্রকাশ করাও যে মানুষের একটি স্বাভাবিক অধিকার, সেই অনুভূতিকে মজার ছলে উদযাপন করতেই প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর পালিত হয় ‘ন্যাশনাল গ্রাউচ ডে’ (National Grouch Day), যাকে বাংলায় বলা যায় ‘জাতীয় খিটখিটে মেজাজ দিবস’।
এই দিনে জোর করে ইতিবাচক থাকার কোনো চাপ থাকে না। বরং মন খুলে যেকোনো বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা, গম্ভীর মুখে থাকা কিংবা কারও মুখের দিকে তাকিয়ে জোর করে হাসি না দেওয়ার পূর্ণ ছাড় রয়েছে। এমনকি দিনটিতে খিটখিটে মেজাজের কাউকে অপ্রয়োজনীয় উৎসাহ দিতে বা হাসিখুশি করার চেষ্টা না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়।
মজার এই দিবসটি কীভাবে শুরু হলো? দিবসটির ভাবনার সঙ্গে বিশ্বখ্যাত শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘সেসামি স্ট্রিট’-এর সবসময় খিটখিটে মেজাজে থাকা জনপ্রিয় চরিত্র ‘অস্কার দ্য গ্রাউচ’-এর নাম জড়িয়ে রয়েছে। তবে এর গোড়াপত্তন সরাসরি এই চরিত্র থেকে হয়নি।
জনপ্রিয় তথ্যপঞ্জি ‘চেজেস ক্যালেন্ডার অব ইভেন্টস’-এর প্রতিষ্ঠাতা বিল ও হেলেন চেজের নাতনি মনিকার হাত ধরেই এই অদ্ভুত দিবসটির সূচনা বলে প্রচলিত রয়েছে। ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় মনিকার একজন শিক্ষক ছিলেন, যিনি সবসময় বেশ মেজাজ চড়ে থাকা বা খিটখিটে স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ঘটনাচক্রে ওই শিক্ষকের জন্মদিন ছিল ১৫ অক্টোবর। ক্লাসের বন্ধুরা মিলে মজা করে শিক্ষকের সেই বিশেষ দিনটিকে ‘জাতীয় খিটখিটে মেজাজ দিবস’ হিসেবে উদযাপন শুরু করে। পরবর্তীতে এই মজার ধারণাটি ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।



