যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভাইনের একটি জরিপে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়াকে ‘পলিটিক্যাল ব্রেকআপ’ বা রাজনৈতিক বিচ্ছেদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ঘটনাবলিও আমাদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। রাজনৈতিক মতভেদের কারণে সামাজিক সম্পর্ক, পারিবারিক বন্ধন ও বন্ধুত্ব নষ্ট হওয়া এখন এক নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিভাজনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, স্বাধীনতা-উত্তর সরকারের নানামুখী সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্ভিক্ষ, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান, বিভিন্ন জোটের উত্থান-পতন এবং পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের প্রভাবে ছাত্র, শ্রমিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির মধ্যে রাজনৈতিক বিভক্তি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, যা ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে এবং পরিবারের মধ্যেও রাজনৈতিক বিচ্ছেদ ঘটাচ্ছে।
লেখক ও গবেষকদের মতে, যেকোনো আদর্শের সমর্থক হওয়া স্বাভাবিক হলেও, বস্তুনিষ্ঠতা ও নির্মোহ বিচার-বিশ্লেষণ যখন দলীয় পছন্দ-অপছন্দের চাদরে ঢাকা পড়ে যায়, তখন সুস্থ আলোচনা-সমালোচনার পরিবেশ সংকুচিত হয়ে আসে। জনপ্রশাসন, আদালত, গণমাধ্যম কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়—সবক্ষেত্রেই দলীয় রঙের ভিত্তিতে ব্যক্তিকে শ্রেণিভুক্ত করার প্রবণতা দেখা যায়। দলপ্রীতির এই চরম সংস্কৃতির কারণে বন্ধু, সহকর্মী কিংবা আত্মীয়ের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক চিরতরে শেষ হয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক মতভেদ যেন পারস্পরিক সম্পর্ক ও মানবিক বন্ধনকে ছিন্ন না করে, সে বিষয়ে সমাজের প্রতিটি স্তরে আত্মজিজ্ঞাসা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।



