বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনা ঘটেছে রাজধানী ঢাকায়। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। আজ শনিবার সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও মজবুত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়েও কথা বলেছেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা। এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। এত উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এই বৈঠকের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তোলে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটিই সার্জিও গরের এই সফরের একমাত্র কর্মসূচি নয়। গত ৩০ জুলাই ঢাকায় পৌঁছানোর পর প্রথম দিনেই তিনি বৈঠক করেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে। এরপর গতকাল শুক্রবার তিনি সরাসরি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির। সেখানে তিনি আশ্রয়শিবিরে চলমান বিভিন্ন মানবিক ও সেবামূলক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সরাসরি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বর্তমান জীবনযাপনের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
সফরকালে সার্জিও গরের সঙ্গে ছিল মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল, যার নেতৃত্বে ছিলেন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন নিজেই। মূলত এই সফরের মধ্য দিয়ে কূটনৈতিক, মানবিক এবং অর্থনৈতিক—এই তিন ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি স্পষ্ট বার্তা পাওয়া গেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। আগামী দিনগুলোতে এই সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



