রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সংঘটিত এ ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে হামলাকারীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথাও উঠে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার একাধিক ভিডিওতেও কয়েকজনকে দেশীয় অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় কারও হাতে ধারালো অস্ত্র, আবার কারও হাতে হকিস্টিক, পাইপ ও ব্যাট ছিল।
আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নূর আহসান মৃদুল, আগামী সময়ের জাহিদুল ইসলাম, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফুজ্জামান কোরবান এবং সমকালের মাইনুল ইসলাম রাজু। আহতদের প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে আহত সাংবাদিকদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও তারাও ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।
এদিকে হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সোমবার পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অন্যদিকে, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ তদন্তে আলাদা কমিটি করেছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি এ বি এম ইজাজুল কবির রুয়েল ও মনজুরুল আলম রিয়াদকে নিয়ে দুই সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্দেশনা অনুযায়ী, কমিটিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে ছাত্রদলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
তবে হামলার দায় নিয়ে ভিন্ন বক্তব্যও এসেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ঘটনার জন্য ছাত্রশিবিরকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে প্রত্যক্ষদর্শী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাবেক ক্যাম্পাস সাংবাদিকেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন। তাঁরা ঘটনার স্বাধীন তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আইনি পদক্ষেপ এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় তদন্ত—দুই দিকেই নজর থাকবে। বিশেষ করে ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হামলায় কারা জড়িত ছিলেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই ঘটনার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।


