বিএনপি মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেলেও জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে যেতে চান না তিনি। বরং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকলেও মানুষের পাশে থেকে সেবা করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও আলাপকালে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখার বিষয়টি কখনো ভাবেননি জানিয়ে তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্ত এবং মহান আল্লাহর মেহেরবানিতেই এই দায়িত্বের জন্য তাঁকে মনোনীত করা হয়েছে। এ সময় রাষ্ট্রপতি হলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুট রাখার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, জনগণের জন্য এবং নিজের এলাকার উন্নয়নে সব সময় পাশে থাকার চেষ্টা করবেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার নেতারা তাঁকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ায় অভিনন্দন জানান। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। দল তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ায় মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
আলাপের সময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি বিভিন্ন পরামর্শও দেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দলটির মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর এবার রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর মনোনয়নকে ঘিরে দলের ভেতরে ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদগুলোর একটি। এই দায়িত্বে থেকে সরাসরি দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে জনগণের পাশে থাকার আকাঙ্ক্ষা রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কেরও একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরামের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতে মির্জা ফখরুল তাঁর নিজ এলাকা ও সেখানকার মানুষের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, দায়িত্ব যত বড়ই হোক, এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাঁদের প্রয়োজনের কথা শোনা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চান না।
সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি বাংলাদেশ প্রতিদিনের মানিক মুনতাসির, সাধারণ সম্পাদক সমকালের দেলোয়ার হোসেন, বাসসের প্রধান বার্তা সম্পাদক মানিকুল আজাদ, সহসভাপতি স্টার টিভির মাহবুব আলমসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক ও নারীবিষয়ক সম্পাদকসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনের উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের কয়েকজনও সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেন।
তাঁদের অভিনন্দনের জবাবে মির্জা ফখরুল নিজের রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায় নিয়ে আবেগ প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়টি তাঁর নিজের পরিকল্পনায় ছিল না উল্লেখ করে তিনি দলের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেন এবং এ দায়িত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
তবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেলেও জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়ার যে ইচ্ছার কথা তিনি জানিয়েছেন, সেটিই সাক্ষাতের মূল বার্তা হয়ে উঠেছে।
রাজনীতির দীর্ঘ পথ পেরিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে যাওয়ার সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়ে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে তাই উঠে এসেছে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার প্রত্যয়। এখন তাঁর সামনে অপেক্ষা করছে নতুন এক দায়িত্ব ও নতুন এক রাজনৈতিক অধ্যায়।


