মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটার হিসেবে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকলেও প্রার্থী হিসেবে তাঁদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে অনেক কম বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তাঁর মতে, এ ক্ষেত্রে দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে লিঙ্গসমতা নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালায় নির্বাচনপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে নারীর কার্যকর ও অর্থবহ অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশন নারীদের কার্যকর ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। শুধু ভোটার হিসেবে নয়, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রার্থী ও প্রচারক থেকে শুরু করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং কর্মকর্তা, পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী হিসেবেও নারীদের স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা দরকার।

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে শুধু আইন থাকাই যথেষ্ট নয় বলেও মনে করেন নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিধান রয়েছে। তারপরও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর মতে, এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনের প্রতিশ্রুতিও গুরুত্বপূর্ণ।

সিইসি মনে করেন, নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণকে সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। প্রশাসন, শিক্ষা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগসহ জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। একইভাবে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াতেও তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন।

দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে বিশ্বাসযোগ্য ও টেকসই করতে হলে এই জনগোষ্ঠীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। তবে এ জন্য কৌশল নির্ধারণের সময় দেশের সংস্কৃতি, সামাজিক বাস্তবতা ও মানুষের বিশ্বাসকেও বিবেচনায় নিতে হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সিইসি বলেন, এসব নির্বাচনে সাধারণত নারী ভোটারের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হলেও নারী প্রার্থীর সংখ্যা কম থাকে। ফলে শুধু ভোট দেওয়ার মধ্যেই নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সীমাবদ্ধ না রেখে জনপ্রতিনিধিত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়েও তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রসঙ্গও কর্মশালায় তুলে ধরেন নাসির উদ্দিন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই আসনে পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার বেশি। ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রমের মাধ্যমে এমন অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সিইসির বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল—নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ শুধু ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। প্রার্থী হওয়া থেকে শুরু করে নির্বাচন পরিচালনা, পর্যবেক্ষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন পর্যায়েও নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। তাহলেই নির্বাচনী ব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণ আরও কার্যকর ও অর্থবহ হয়ে উঠবে।

কর্মশালায় নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহও বক্তব্য দেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক: শিহাব আহমেদ

Sokal News | সকাল নিউজ is a youth-led online news and media portal dedicated to delivering accurate, timely, and impactful news. Driven by a passion for truth and transparency, our mission is “সত্যের আলোয় প্রতিদিন” (“In the light of truth, every day”). Stay connected with us for trustworthy news coverage from a fresh perspective.

প্রধান কার্যালয়:
সকাল নিউজ, ই-১৭/৬, চায়না টাউন, ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০

© 2026 সকাল নিউজ. সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত Shihab Group.
Exit mobile version