এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাই সামনে। এমন সময়ে মাঠের প্রস্তুতির চেয়ে মাঠের বাইরের ঘটনাতেই বেশি আলোচনায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল। প্রধান কোচকে ঘিরে বিতর্ক, সহকারী কোচের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা, বেতন ও নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ—সবকিছুর মধ্যেই বাফুফে আয়োজন করল দলের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন। কিন্তু সেখানে দেখা গেল না প্রধান কোচ, সহকারী কোচ কিংবা কোনো খেলোয়াড়কে।
বৃহস্পতিবার বাফুফে ভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন শুধু টিম ম্যানেজার সামিদ কাশেম। সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে কোচ ও অধিনায়কের উপস্থিতিই প্রত্যাশিত। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
মূলত এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সামনে রেখেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এটি গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পরে স্থগিত করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত উজবেকিস্তানের উদ্দেশে দলের রওনা হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সংবাদ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।
কেন প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স কিংবা দলের অন্য কোনো কোচ ও খেলোয়াড়কে সংবাদমাধ্যমের সামনে আনা হলো না—এমন প্রশ্নের মুখে পড়েন টিম ম্যানেজার সামিদ কাশেম।
এর ব্যাখ্যায় তিনি জানান, সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত চলছে। সেই পরিস্থিতিতে কোচদের সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি করানো সমীচীন মনে করেনি দল ব্যবস্থাপনা।
মূল বিতর্কের সূত্রপাত গত ১৯ আগস্ট। টিম হোটেলে প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স এবং সহকারী কোচ আতিকুর রহমানের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সেটি ধাক্কাধাক্কিতে রূপ নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে জোন্স নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন।
ঘটনাটি এখন তদন্ত করছে বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জেরার্ড জোন্স ও আতিকুর রহমান—দুজনের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তবে এটিই জোন্সকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ের একমাত্র বিতর্ক নয়। এর আগে গত ১০ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের বেতন না পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
ফলে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ঠিক আগে বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক দলটির ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। বিশেষ করে প্রধান ও সহকারী কোচের মধ্যকার বিরোধ এবং সেই ঘটনা নিয়ে চলমান তদন্ত দলের প্রস্তুতিতে কোনো প্রভাব ফেলছে কি না, সেটিও আলোচনায় রয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন একটি বাছাইপর্ব।
আগামী ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানে শুরু হওয়ার কথা এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাই। বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে স্বাগতিক উজবেকিস্তান, প্রতিবেশী ভারত এবং সিরিয়া। ফলে মাঠে বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের সামনে সহজ কোনো পরীক্ষা অপেক্ষা করছে না।
টুর্নামেন্টে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার রাতেই উজবেকিস্তানের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার কথা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের।
আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আগে সাধারণত দলের কৌশল, প্রস্তুতি, প্রতিপক্ষ এবং প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এবার আলোচনার বড় অংশজুড়েই থাকছে মাঠের বাইরের ঘটনা।
সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে সংবাদ সম্মেলনে কোচ ও খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি। চলমান তদন্তের কারণে কোচদের সংবাদমাধ্যম থেকে দূরে রাখার ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও দলের কোনো খেলোয়াড়কেও কেন সামনে আনা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এখন বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মাঠের বাইরের এসব বিতর্ক পেছনে ফেলে ফুটবলে মনোযোগ ফেরানো। কারণ উজবেকিস্তান, ভারত ও সিরিয়ার বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের আগে দলের ভেতরে স্থিতিশীলতা এবং খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ।
বাছাইপর্বে বাংলাদেশ কেমন করবে, সেটি মাঠেই নির্ধারিত হবে। তবে উজবেকিস্তানের বিমানে ওঠার আগেই অনূর্ধ্ব-২০ দলকে ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে এবারের অভিযান শুরু হওয়ার আগেই বাংলাদেশের ফুটবলাঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে দলটি।

