ইউএস ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে প্রতিপক্ষকে সরাসরি সেটে হারিয়ে চতুর্থ রাউন্ডে উঠেছেন আরিনা সাবালেঙ্কা। তবে উজবেকিস্তানের কামিলা রাখিমোভার বিপক্ষে তাঁর এই ম্যাচ আলোচনায় এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে। খেলা চলার সময় গাঁজার তীব্র গন্ধে এতটাই বিরক্ত হন সাবালেঙ্কা যে একপর্যায়ে আম্পায়ারের কাছে অভিযোগ জানিয়ে সাময়িকভাবে খেলা থামাতে বাধ্য হন।
লুইস আর্মস্ট্রং স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রাখিমোভাকে ৬–৩, ৬–৪ গেমে হারান র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা সাবালেঙ্কা। কিন্তু প্রথম সেটে ৩–০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সময়ই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন তিনি।
কোর্টে হঠাৎ গাঁজার গন্ধ পাওয়ার পর চেয়ার আম্পায়ার এভা আসদেরাকি-মুরের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন সাবালেঙ্কা। তিনি আম্পায়ারকে জানান, কেউ একজন গাঁজা সেবন করছেন এবং গন্ধটি ‘অত্যন্ত তীব্র’। পরিস্থিতি সামলাতে আম্পায়ারের সহায়তাও চান তিনি।
সাবালেঙ্কার অভিযোগের পর আসদেরাকি-মুর রেডিওর মাধ্যমে ম্যাচ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পেছনে থাকা এক কর্মকর্তার উদ্দেশে ধূমপানের ইশারাও করেন তিনি। এরপর পরিস্থিতি সামলে আবার খেলা শুরু হয়।
শেষ পর্যন্ত এই বিড়ম্বনা সাবালেঙ্কার জয়ের পথে বাধা হতে পারেনি। সরাসরি দুই সেটে রাখিমোভাকে হারিয়ে চতুর্থ রাউন্ড নিশ্চিত করেন তিনি। তবে ম্যাচ শেষে গাঁজার গন্ধ নিয়ে নিজের অস্বস্তির কথা আবারও তুলে ধরেন এই টেনিস তারকা।
সাবালেঙ্কা জানান, গন্ধটি ঠিক কোথা থেকে আসছিল, সেটি তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি। গ্যালারির কোনো দর্শকের কাছ থেকে গন্ধ আসছিল, নাকি স্টেডিয়ামের বাইরে থেকে বাতাসে ভেসে এসেছিল—সেটি তাঁর কাছে পরিষ্কার ছিল না।
তবে ম্যাচের মতো উচ্চমাত্রার প্রতিযোগিতায় এমন পরিস্থিতি একজন খেলোয়াড়ের জন্য কতটা বিরক্তিকর, সেটি বোঝাতে গিয়ে সাবালেঙ্কা বলেন, নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করার সময় এ ধরনের তীব্র গন্ধ সামলানো কঠিন। এসব বিষয়ে মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ইউএস ওপেনের ভেন্যু ফ্লাশিং মিডোসের স্টেডিয়াম চত্বরে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে পাশের কোরোনা পার্ক থেকে মাঝেমধ্যেই গাঁজার গন্ধ বাতাসে ভেসে টেনিস কোর্টে চলে আসে। নিউইয়র্কে ২১ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য গাঁজা সেবন আইনত বৈধ।
ফলে সাবালেঙ্কার ম্যাচে গন্ধটি স্টেডিয়ামের ভেতরে থাকা কারও কাছ থেকে এসেছে কি না, সেটি নিশ্চিত নয়। সাবালেঙ্কাও সরাসরি কাউকে দায়ী করেননি। বরং গন্ধের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত নন জানিয়ে শুধু দর্শক ও আশপাশের মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এবারের ইউএস ওপেনে গাঁজার গন্ধ নিয়ে অভিযোগ করা প্রথম খেলোয়াড়ও নন সাবালেঙ্কা। এর আগে ব্রিটিশ টেনিস খেলোয়াড় কেটি বোল্টার একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, গাঁজার কটু গন্ধ ম্যাচে মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা তৈরি করেছে।
ব্রিটেনের আরও দুই খেলোয়াড় হ্যারিয়েট ডার্ট ও ফ্রান্সেসকা জোন্সও একই বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। অর্থাৎ ফ্লাশিং মিডোসে চলতি আসরে একাধিক খেলোয়াড়ের কাছ থেকেই গাঁজার গন্ধ নিয়ে আপত্তি এসেছে।
এই সমস্যাটি অবশ্য শুধু এবারের আসরেই দেখা যাচ্ছে, এমন নয়। এর আগে নোভাক জোকোভিচ ও আলেক্সান্দার জভেরেভের মতো শীর্ষস্থানীয় টেনিস তারকারাও ফ্লাশিং মিডোসে ম্যাচ চলাকালে গাঁজার গন্ধ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন।
সব মিলিয়ে কোর্টের বাইরের একটি বিষয় আবারও ইউএস ওপেনে খেলোয়াড়দের মনোযোগ ও স্বাচ্ছন্দ্যের প্রশ্ন সামনে এনেছে। সাবালেঙ্কা শেষ পর্যন্ত অস্বস্তি সামলে জয় তুলে নিতে পারলেও তাঁর অভিযোগ দেখিয়ে দিল, বিশ্বের অন্যতম বড় টেনিস আসরে মাঠের বাইরের পরিবেশও কখনো কখনো খেলোয়াড়দের জন্য বড় বিড়ম্বনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।



