ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) হেফাজতে থাকা অবস্থায় এক ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ডিবি পুলিশের নির্যাতনের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
রোববার সকাল আটটার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্ত (২৭)। তিনি মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে বাড়ির সামনে থেকে ইশতিয়াককে আটক করে ডিবি পুলিশ। এ সময় তাঁর মায়ের সামনেই তাঁকে মারধর করা হয়। বাধা দিতে গেলে তাঁর মায়ের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। পরে বাড়িতে তল্লাশির নামে বিভিন্ন কক্ষের জিনিসপত্র তছনছ করে ডিবি সদস্যরা তাঁকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।
নিহতের মামা সাখাওয়াত হোসেন জানান, আটক করার পর সারা রাত বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও ইশতিয়াকের কোনো সন্ধান পাননি পরিবারের সদস্যরা। রোববার সকালে তাঁরা জানতে পারেন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের মা খাদিজা আক্তার অভিযোগ করেন, আটকের সময় কিংবা বাড়ি তল্লাশি করে কোনো মাদক উদ্ধার করা যায়নি। অথচ পরে পুলিশের পক্ষ থেকে গাঁজা উদ্ধারের দাবি করা হয়েছে। তিনি তাঁর ছেলের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। ফরিদপুর ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, মাদকসহ আটক করার পর ইশতিয়াককে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে তাঁর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হয় এবং প্রাতরাশও করানো হয়। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মধুখালী থানার পুলিশ জানিয়েছে, ইশতিয়াকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে পরিবারের পক্ষ থেকে ডিবি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভ্যন্তরীণ তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, ইশতিয়াকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী? পরিবারের অভিযোগ নাকি পুলিশের দাবি—কোনটি সত্য, তা স্পষ্ট হবে তদন্তের ফলাফলের পরই।

