ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ১০২ শতাংশ জমি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। জমিটি কিনতে কোম্পানিটির ব্যয় হবে ২ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, সোমবার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় জমি কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার ব্রাহ্মন্দী-৩৭ মৌজায় এই জমি কেনা হবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইর কাছে দেওয়া ঘোষণায় অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ জানিয়েছে, জমিটি কোম্পানির নিজ নামে নিবন্ধন করা হবে। জামান মিয়া, মো. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া ও অন্য মালিকদের কাছ থেকে জমিটি কেনা হবে।
কোম্পানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণে এই জমি ব্যবহার করা হবে। অর্থাৎ নতুন জমি কেনার মাধ্যমে উৎপাদন ও ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কোম্পানিটি।
জমি কেনার মূল দামের পাশাপাশি নিবন্ধনের সময় প্রযোজ্য ভ্যাট, কর এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ বহন করবে বলে ডিএসইর ঘোষণায় জানানো হয়েছে।
এটি অবশ্য চলতি বছরে কোম্পানিটির প্রথম জমি কেনার সিদ্ধান্ত নয়। এর আগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার মদনপুর এলাকায় সোয়া ১৯ শতাংশ জমি কিনেছিল অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ। ওই জমির জন্য কোম্পানিটির ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৫৮ লাখ টাকা।
ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য নতুন জমি কেনার ঘোষণার পর মঙ্গলবার পুঁজিবাজারেও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। দিনের লেনদেনে কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ১৫৪ টাকা। আর সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৫২ টাকা ৯০ পয়সা।
অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ দেশের পরিচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। ১৯৮৯ সালে কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। পুঁজিবাজারে কোম্পানিটি ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানি হিসেবে ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত।
দেশের বিস্কুট ও কনফেকশনারি বাজারে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। কোম্পানিটির পরিচিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে এনার্জি, নাটি, টিপ ও লেক্সাসসহ বিভিন্ন ধরনের বিস্কুট। এর পাশাপাশি ব্যাটারি ব্যবসাতেও কোম্পানিটির কার্যক্রম রয়েছে।
কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার দিকেও নজর দিলে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে অর্থাৎ জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ সময়ে অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ৭ টাকা ৪১ পয়সা। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ১০ টাকা ৬ পয়সা।
অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেওয়ার ইতিহাসও রয়েছে কোম্পানিটির। ২০২৫ সালে ৩০ শতাংশ, ২০২৪ সালে ১০ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ।
বর্তমানে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের সংখ্যা প্রায় ১৯ কোটি ৯৯ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮৬টি। গত ৩১ জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী, এসব শেয়ারের ৩৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ রয়েছে কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে।
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২২ দশমিক ৮৫ শতাংশ শেয়ার। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় রয়েছে ২৭ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে কোম্পানির ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ শেয়ার।
নতুন করে আড়াইহাজারে ১০২ শতাংশ জমি কেনার সিদ্ধান্তকে কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বা ভবিষ্যতে নতুন স্থাপনা তৈরির সুযোগ তৈরি করতে জমিটি ব্যবহার করা হতে পারে।
তবে এই জমিতে ঠিক কী ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হবে বা কবে নাগাদ সেখানে কার্যক্রম শুরু হবে, সে বিষয়ে কোম্পানির ঘোষণায় বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সব মিলিয়ে, নতুন জমি কেনার এই সিদ্ধান্ত অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একটি বড় ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের এই ধরনের বিনিয়োগ ভবিষ্যতে কোম্পানির উৎপাদন ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা কতটা বাড়াতে পারে, সেটিই এখন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের বিষয়।

