এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। এবার পরীক্ষার ফলাফলে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যায়। আগের বছরের তুলনায় কমেছে সর্বোচ্চ গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। তবে জিপিএ–৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে এবারও ছেলেদের পেছনে ফেলেছে মেয়েরা।
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ৫২ হাজার ৭৮০ জন এবং ছাত্রী ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন। অর্থাৎ, জিপিএ–৫ পাওয়া ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যা ১১ হাজার ১১৬ জন বেশি।
সোমবার, ১০ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অনলাইনের মাধ্যমে একযোগে ফলাফল দেখতে শুরু করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এবারের ফলাফলে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি। ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৫৬ জন।
শুধু জিপিএ–৫ নয়, পাসের হারেও এবার নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর গড় পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
আর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডকে যুক্ত করলে মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এসব বোর্ড মিলিয়ে এবার জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী।
তবে ফলাফলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি হলো ছাত্রীদের এগিয়ে থাকা। জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন ছাত্রী। বিপরীতে ছাত্রদের মধ্যে জিপিএ–৫ পেয়েছে ৫২ হাজার ৭৮০ জন। ফলে সর্বোচ্চ গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে ১১ হাজার ১১৬ জন।
এই ব্যবধান শুধু সংখ্যার দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের শিক্ষাগত সাফল্যের ধারাবাহিকতাও এর মাধ্যমে আবার সামনে এসেছে। তবে সামগ্রিকভাবে জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবারের ফলাফল আগের বছরের তুলনায় ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে।
এদিকে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ফল প্রকাশের দিনটি ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানের দিন। প্রায় ১৮ লাখ শিক্ষার্থী আড়াই মাসের অপেক্ষার পর নিজেদের ফলাফল জানতে পেরেছেন।
সোমবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোনের এসএমএস এবং অনলাইনসহ নির্ধারিত মাধ্যমে ফলাফল দেখার সুযোগ পান। ফলে ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে শুরু হয় ফলাফল জানার ব্যস্ততা।
এবারের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দুটি বিষয় স্পষ্টভাবে সামনে আসে। প্রথমত, গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে। দ্বিতীয়ত, জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রীরা ছাত্রদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালে জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন। অর্থাৎ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতেও জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।
সব মিলিয়ে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। পাসের হার কমেছে, জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। তবে মেয়েদের ফলাফল বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। কারণ, সর্বোচ্চ গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে এবার ছেলেদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা।
ফল প্রকাশের পর এখন শিক্ষার্থীদের সামনে অপেক্ষা করছে পরবর্তী ধাপ—একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি। ভালো ফল করা শিক্ষার্থীরা পছন্দের কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি নেবে। আর যাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল হয়নি, তারাও সামনে থাকা শিক্ষাজীবনের পরবর্তী ধাপে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল তাই শুধু পাস-ফেলের হিসাব নয়; বরং দেশের মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থায় ফলাফলের পরিবর্তন, জিপিএ–৫ পাওয়ার প্রবণতা এবং ছাত্রীদের সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্রও তুলে ধরেছে।

