লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ৩৩ দিন ধরে বিছানায় কাতরাচ্ছেন শারাফাত হাসান মাসুম। দীর্ঘদিন অসুস্থ বন্ধুর মন ভালো করতে তার বাড়িতে গিয়ে গান বাজিয়ে নাচ-গান করে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন দুই বন্ধু। সেই ব্যতিক্রমী মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার কয়েকজনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডিতে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুলাই মেজো বোন সিঁথির বিয়ের অনুষ্ঠানের বাজার করতে বের হন শারাফাত হাসান মাসুম। পথে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের বন্দর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশার সঙ্গে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি।দুর্ঘটনার পর তাকে দ্রুত রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর বর্তমানে বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মাসুম। দীর্ঘদিন ধরে বিছানায় থাকায় শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিকভাবেও অনেকটা ভেঙে পড়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর থেকেই মাসুমের কয়েকজন বন্ধু নিয়মিত তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাতে মাসুমকে মন খারাপ করে থাকতে দেখে তাকে একটু আনন্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেন বন্ধু মাজহারুল ইসলাম রিফাত ও মেহেদী হাসান সঞ্জু। মোবাইল ফোনে গান বাজিয়ে দুই বন্ধু নাচ-গান শুরু করেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন মাসুমের বড় ভাই শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত।
এ সময়ের একটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, অসুস্থ মাসুম বিছানায় শুয়ে আছেন। আর পাশে দাঁড়িয়ে গান ও নাচের মাধ্যমে তাকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করছেন তার বন্ধুরা। বন্ধুদের এমন কাণ্ডে মাসুমের মুখেও ফুটে ওঠে হাসি।
শারাফাত হাসান মাসুম বলেন, “দুর্ঘটনার পর শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেকটা ভেঙে পড়েছিলাম। বন্ধুরা আমাকে হাসানোর জন্য যেভাবে নাচ-গান করেছে, তা সত্যিই ভালো লেগেছে। কিছু সময়ের জন্য হলেও কষ্ট ভুলে গিয়েছিলাম।
আহত ব্যক্তির বন্ধু,মাজহারুল ইসলাম রিফাত বলেন, “মাসুম আমাদের খুব কাছের বন্ধু। দুর্ঘটনার পর থেকে তাকে অনেকটা সময় মন খারাপ করে থাকতে দেখেছি। গত রাতে ওর মনটা খুব খারাপ ছিল। তাই ওকে একটু আনন্দ দেওয়ার জন্য আমরা গান ছেড়ে নাচ শুরু করি। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল শুধু বন্ধুর মুখে একটু হাসি ফোটানো। ভিডিওটি যে এতটা ছড়িয়ে পড়বে, তা ভাবিনি।
আহত ব্যক্তির বন্ধু মেহেদী হাসান সঞ্জু বলেন, “বন্ধু বিপদে পড়লে পাশে থাকাই বন্ধুত্ব। মাসুম দীর্ঘদিন ধরে বিছানায়। ওর মন ভালো করতেই আমরা নাচ-গান করেছি। ওকে হাসতে দেখে আমাদেরও ভালো লেগেছে। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।
বড়ভাই শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত বলেন, “দুর্ঘটনার পর মাসুম অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েছিল। বন্ধুরা এসে গান-বাজনা করে ওকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। মাসুমকে হাসতে দেখে আমাদেরও ভালো লেগেছে।
আহত ব্যক্তির বড় ভাই শাহ্ জালাল রুবেল বলেন, “দুর্ঘটনার পর থেকে মাসুম অনেক কষ্টের মধ্যে আছে। দীর্ঘদিন বিছানায় থাকায় মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছিল। বন্ধুরা এসে তাকে হাসানোর চেষ্টা করেছে, এটা দেখে আমরাও খুশি হয়েছি। সবাই আমার ছোট ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন।
সচেতন মহলের পক্ষে নর্থল্যান্ড রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক নাজমুল কায়েস হিরু বলেন, “দুর্ঘটনার পর একজন অসুস্থ মানুষের পাশে থেকে বন্ধুরা যেভাবে মানসিকভাবে সাহস জোগাচ্ছে, তা প্রশংসনীয়। শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর মানসিক শক্তি বাড়াতেও পরিবার ও বন্ধুদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

