ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসররা আবারও সক্রিয় হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া মানুষেরা এখনো সক্রিয় রয়েছেন এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরুত্থানের কোনো সুযোগ নেই।
রোববার এক বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের দোসররা আবারও সক্রিয় হচ্ছে। তাদের মনে রাখা উচিত, ২৪-এর সেনারা এখনো বেঁচে আছে।’
২০২৪ সালের অভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত আন্দোলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘২৪-এর অভ্যুত্থান চূড়ান্ত যুদ্ধ ছিল না, এটা ছিল রিহার্সেল। যারা ২৪-এর অভ্যুত্থানকে ফাইনাল আন্দোলন ভাবছেন, তারা ভুল করছেন।’
বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করেন জামায়াতের আমীর। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৫ বছর যে ফ্যাসিবাদী সরকার দেশ পরিচালনা করেছে, বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে।
শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আর কাউকে ফ্যাসিবাদী পথে চলতে দেবে না। তাঁর বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসন মেনে না নেওয়ার বার্তা উঠে আসে।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর বাংলাদেশের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, এত বছর পরও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে দেশের সরকারপ্রধান, তাঁর আত্মীয়স্বজন, জাতীয় মসজিদের ইমাম এবং বিচারপতিদের দেশ ছেড়ে পালাতে হয়।
তিনি বলেন, পতিত ফ্যাসিস্টরা দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সময়ের শাসনব্যবস্থার প্রভাব দেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পড়েছে।
এ সময় জুলাই জাদুঘর নিয়েও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর। তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিশেষ একটি দেশকে খুশি করতে’ জুলাই জাদুঘর থেকে অনেক উপাদান সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
তবে কোন কোন উপাদান সরিয়ে ফেলা হয়েছে বা এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণের কথা তিনি উল্লেখ করেননি।
ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান আরও বলেন, যারা একবার অপকর্ম করে দেশ থেকে পালিয়ে যায়, ইতিহাস অনুযায়ী তারা আর দেশে ফিরে আসে না।
তাঁর বক্তব্যে একদিকে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখার আহ্বান এসেছে, অন্যদিকে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমালোচনাও রয়েছে। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরায় সক্রিয় হওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শফিকুর রহমানের বক্তব্যের মূল সুর ছিল—২০২৪ সালের আন্দোলনকে কোনোভাবেই শেষ অধ্যায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, প্রয়োজনে জনগণ আবারও রাজপথে সক্রিয় হবে এবং দেশে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাবে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, বর্তমান সরকারের ভূমিকা এবং ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার গতিপথ—এসব প্রশ্ন সামনে রেখে তাঁর মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

