রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—রাকসুর তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। এ বিষয়ে সাত দফা দাবি জানিয়ে আজ শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীমের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি।
ছাত্রদলের অভিযোগ, রাকসুর তহবিল থেকে ৪২টি কর্মসূচির জন্য মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিপরীতে কোনো বিল ও ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। সংগঠনটির দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের মতো করে অর্থ উত্তোলন করেছেন এবং উত্তোলিত অর্থের বড় একটি অংশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়নি।
তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
সহ–উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে ছাত্রদল রাকসুর আর্থিক বিষয় নিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে। এতে বিধি না মেনে রাকসু তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ করা হয়েছে। উপাচার্য রাজশাহীতে ফিরলে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ছাত্রদলের সাত দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হলো—রাকসুর তহবিল থেকে উত্তোলিত প্রায় সোয়া কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা। কোন খাতে, কত টাকা, কখন এবং কার অনুমোদনে অর্থ উত্তোলন ও ব্যয় করা হয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ ছাড়া খাত উল্লেখ ও যথাযথ বিল-ভাউচার ছাড়া উত্তোলিত অর্থের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লিখিত জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি করা হয়েছে। রাকসুর আর্থিক কাগজপত্রের স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত বা অডিট করার পাশাপাশি প্রয়োজনে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও জানিয়েছে ছাত্রদল। তদন্তের প্রতিবেদন শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশের দাবিও রয়েছে।
তদন্তে অর্থ আত্মসাৎ, অপব্যবহার, দুর্নীতি, অনিয়ম কিংবা আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। অনিয়মের মাধ্যমে ব্যয় বা আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার করে রাকসুর তহবিলে ফেরত দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে নিয়মিত অডিট, আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ এবং প্রতিটি ব্যয়ের বিপরীতে বাধ্যতামূলকভাবে বিল-ভাউচার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছে রাকসুর আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী অভিযোগ করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের করের অর্থে পরিচালিত হয় এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসেবে রাকসুর অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। তাঁর দাবি, রাকসুর প্রতিনিধিরা সোয়া কোটি টাকা উত্তোলন করলেও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেননি। অর্থ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় না করে ব্যক্তিগত বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ) ও জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা সাড়া দেননি। তবে এর আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেছেন, সঠিক তথ্য যাচাই না করে আংশিক বা অপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী। রাকসু স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতে বিশ্বাসী এবং অডিট শেষ হওয়ার পর যেকোনো যৌক্তিক আলোচনাকে স্বাগত জানাবে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
এদিকে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, রাকসুর মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অডিট করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সম্পাদকরা নিজেদের হিসাব জনগণের সামনে দেবেন। এরপর যেসব প্রশ্ন উঠবে, সেগুলোর জবাব দেওয়ার সুযোগ থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
ফলে রাকসুর তহবিল ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত বা অডিটের দিকেই নজর থাকবে। তদন্তে অর্থ ব্যবহারের প্রকৃত চিত্র ও অভিযোগগুলোর ভিত্তি কতটা রয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়ার কথা।

