গত ১৭ বছর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নানা ধরনের বাধা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাকে সংবাদমাধ্যমে কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
রোববার সকালে সচিবালয়ে নিজের প্রথম কর্মদিবসে যোগ দেন তথ্যমন্ত্রী। পরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময়ই সংবাদমাধ্যম, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন আন্দালিব রহমান পার্থ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর সংবাদমাধ্যমের হাত বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্যে ওই সময়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতা ছিল, সেটির সমালোচনা উঠে আসে।
তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্ব সংবাদমাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পার্থ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সংবাদমাধ্যমে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে একদিকে অতীত সময়ে সংবাদমাধ্যমের ওপর থাকা সীমাবদ্ধতা দূর করার প্রত্যাশা, অন্যদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাবলি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত সময়ে এই বিভাগে নৈতিক অবক্ষয় হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পার্থ বলেন, শুধু দায়িত্ব গ্রহণ করলেই পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়। দীর্ঘদিনের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সময় প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশকে নতুন দিকে নিয়ে যাওয়ার যে স্বপ্ন রয়েছে, সেটি বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রত্যাশার কথাও জানান।
আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, দেশকে নতুন দিকে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে। এই লক্ষ্য পূরণে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
এ সময় সংবাদমাধ্যমকে গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান তিনি। অর্থাৎ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কর্মদিবসে দেওয়া বক্তব্যে পার্থের সামনে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং তথ্যপ্রবাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশেষ করে দীর্ঘ সময় সংবাদমাধ্যমের ওপর থাকা বিধিনিষেধের অভিযোগ থেকে বেরিয়ে একটি নতুন পরিবেশ তৈরির কথা বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাকে যথাযথভাবে সংবাদে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্পষ্ট করেছেন।
তবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রের স্তম্ভ হিসেবে সংবাদমাধ্যমকে কার্যকর রাখতে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগের পাশাপাশি তথ্য যাচাই, নিরপেক্ষতা এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
নতুন তথ্যমন্ত্রীর প্রথম কর্মদিবসের বক্তব্যে তাই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক দায়িত্ব—দুই বিষয়ই সামনে এসেছে। এখন তাঁর মন্ত্রণালয় বাস্তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক কীভাবে এগিয়ে নেয়, সেটিই হবে পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

