ন্যাটোর কোনো সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিচালিত ‘হাইব্রিড কর্মকাণ্ড’ সহ্য করা হবে না বলে সতর্ক করেছেন ন্যাটোতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ হুইটেকার। একই সঙ্গে এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর পাশে যুক্তরাষ্ট্র থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার ইতালিতে একটি ব্যবসায়িক সম্মেলনের ফাঁকে বক্তব্য দেওয়ার সময় হুইটেকার এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ন্যাটোর কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্রে ড্রোন ও অন্যান্য সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি সদস্য দেশগুলোকে আরও সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
বিশেষ করে গত মাসে জার্মানির লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। জার্মানির রাজধানী বার্লিন ওই ঘটনার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে।
এর আগেও ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে রাশিয়ার চালানো কিছু ড্রোন পথভ্রষ্ট হয়ে ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পাশাপাশি লাইপজিগ ও পোল্যান্ডে ঘটে যাওয়া কিছু কর্মকাণ্ডকে আরও উদ্বেগজনক ‘হাইব্রিড কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেন হুইটেকার।
সাধারণত সরাসরি সামরিক আক্রমণের বাইরে বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে কোনো রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করা বা চাপ তৈরির প্রচেষ্টাকে হাইব্রিড কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে হুইটেকার তাঁর বক্তব্যে মূলত সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো এবং ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তার বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মতে, এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা হলে তাদের প্রস্তুত ও সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও শক্তিশালী বার্তাও দিতে হবে।
কোনো ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, তা শনাক্ত করা সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে কঠোরভাবে জানিয়ে দিতে হবে যে এমন কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা সহ্য করা হবে না—এমন অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
হুইটেকার বলেন, কোনো দেশ যদি নির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে পারে যে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে কারা রয়েছে, তাহলে তার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান জানানো প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি জার্মানির পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন।
তবে হুমকি শুধু বিমানবন্দর বা আকাশসীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বলে সতর্ক করেছেন ন্যাটোতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তাঁর মতে, জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
এ কারণে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করতে এসব অবকাঠামো নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন হুইটেকার।
তবে এ ধরনের হুমকি মোকাবিলার প্রাথমিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় কর্তৃপক্ষের বলেই মনে করেন তিনি। অর্থাৎ কোনো সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে সন্দেহজনক ড্রোন তৎপরতা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে হুমকি দেখা দিলে প্রথম পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সেই দেশের নিজস্ব কর্তৃপক্ষের।
এরপরও ন্যাটো সদস্যরা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন হুইটেকার। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হাইব্রিড কর্মকাণ্ডকে সাধারণ বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার পরিবর্তে এর উৎস শনাক্ত এবং সমন্বিতভাবে শক্ত বার্তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর আকাশসীমা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে হুইটেকারের এই বক্তব্য সামনে এল। বিশেষ করে ড্রোনসংক্রান্ত সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে প্রস্তুতি বাড়ানো এবং সম্ভাব্য হাইব্রিড হুমকির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা—এ ধরনের ঘটনার মোকাবিলায় প্রথম দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দেশের হলেও ন্যাটোর কোনো সদস্য রাষ্ট্রকে ইচ্ছাকৃত হাইব্রিড কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হলে তা বরদাশত করা হবে না এবং সেই পরিস্থিতিতে সদস্য দেশগুলোর পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র।

