রাজধানীর ধানমন্ডিতে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মুখে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৩৮ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় একটি চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে চারটি গুলিসহ দেশে তৈরি একটি রিভলবার এবং লুট হওয়া টাকার মধ্যে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রটির পলাতক সদস্যদের ধরতে এবং বাকি টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।
গ্রেপ্তার আটজন হলেন তানভীর আবেদীন ওরফে জুঁই, মো. মজিবুর রহমান, মো. জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির, মো. সোলায়মান মৃধা, মোহাম্মদ কবির হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, মো. জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিন এবং সজল চৌধুরী।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ আগস্ট দুপুরে। ওই দিন ধানমন্ডির ১২/এ নম্বর সড়কে ডিঙ্গী রেস্টুরেন্টের সামনে খোরশেদ আলম নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা নিয়ে যায় ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল।
ঘটনার পর টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধানমন্ডি মডেল থানার পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দুজনকে আটক করা সম্ভব হয়। তাঁরা হলেন তানভীর আবেদীন ওরফে জুঁই এবং মো. মজিবুর রহমান। ডিএমপির দাবি, তাঁদের কাছ থেকে চারটি গুলিসহ দেশে তৈরি একটি রিভলবার উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ওই দুজনকে গ্রেপ্তারের পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। গ্রেপ্তার মজিবুর রহমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে রাজধানীর দক্ষিণখান থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মো. জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
এরপর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির অন্য সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চালায় পুলিশ। দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাঁরা হলেন মো. সোলায়মান মৃধা, মোহাম্মদ কবির হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, মো. জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিন এবং সজল চৌধুরী। তাঁদের মধ্যে সোলায়মান মৃধাকে শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এসব অভিযানের সময় লুট হওয়া টাকার একটি অংশও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার জাকারিয়া হোসেনের কাছ থেকে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে সজল চৌধুরীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আরও ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
দুজনের কাছ থেকে সব মিলিয়ে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকা উদ্ধার করে জব্দ করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার সময় লুট হওয়া ৩৮ লাখ টাকার বড় একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি।
ডিএমপি বলছে, এই ঘটনায় জড়িত চক্রটির আরও কয়েকজন সদস্য পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা সদস্যদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাঁদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি লুণ্ঠিত বাকি অর্থ উদ্ধারের জন্যও অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
ঘটনাটি নিয়ে ধানমন্ডি মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ডাকাতির ঘটনায় এবং অন্যটি অস্ত্র আইনে করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তদন্তের সূত্র পাওয়া যায়। পরে তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং প্রযুক্তির সহায়তায় পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তদন্ত ও অভিযান এখনো শেষ হয়নি। ৩৮ লাখ টাকার মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকা। ফলে বাকি অর্থ কোথায় রয়েছে এবং ঘটনায় আর কারা জড়িত ছিলেন, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। একই সঙ্গে পলাতক ও অজ্ঞাতনামা সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

