গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। তাঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার সালিনাবক্সা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের যাত্রীবাহী বাসটি খুলনা থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। সালিনাবক্সা এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসে থাকা যাত্রীদের অনেকে আহত হন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও মুকসুদপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি।
দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নিলয় রঞ্জন বল্লাভ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর আহত ২০ জন সেখানে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহত যাত্রী সুমন মোল্লাও মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বাসটি অতিরিক্ত গতিতে চালানো হচ্ছিল। একপর্যায়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
তবে বাসটি ঠিক কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে চূড়ান্ত কোনো কারণ জানানো হয়নি। ফলে আহত যাত্রীর অতিরিক্ত গতির অভিযোগটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।
দুর্ঘটনার পর বাসটির যাত্রীদের উদ্ধারে স্থানীয় লোকজনও এগিয়ে আসেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
দুর্ঘটনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুকসুদপুর থানার ওসি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পরও মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার বিষয়টিও সামনে এসেছে। আহত এক যাত্রী অতিরিক্ত গতিকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও তদন্তের আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
রোববার সকালের এই দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানির পাশাপাশি অন্তত ২০ জন আহত হওয়ায় মুকসুদপুরের সালিনাবক্সা এলাকায় উদ্ধার ও চিকিৎসা তৎপরতা চলে। গুরুতর আহত চারজনকে ফরিদপুরে পাঠানো হয়েছে। এখন নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং বাসটি কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা জানার অপেক্ষা রয়েছে।

