এক দশক আগেও মাছ, মাংস, শাকসবজি কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি পণ্যের জন্য পাড়া-মহল্লার কাঁচাবাজারই ছিল মানুষের একমাত্র ভরসা। তবে আর্থসামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রায় এসেছে বড় রূপান্তর। ব্যস্ত নগরজীবনে জঞ্জালমুক্ত, পরিষ্কার ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে কেনাকাটা নিশ্চিত করতে এখন মধ্যবিত্তের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে আধুনিক সুপারশপগুলো।
এক ছাদের নিচে নির্ধারিত মূল্যে মানসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যপণ্য পাওয়ার সুবিধা, পণ্যমূল্য থেকে ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার এবং সময় বাঁচানোর তাগিদ—সব মিলিয়ে শহুরে ক্রেতাদের সুপারশপমুখী প্রবণতা আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। এছাড়া ডিজিটাল লেনদেন, লয়্যালটি পয়েন্ট ও বিশেষ ছাড়ের মতো সুবিধাগুলোও এই কেনাকাটার সংস্কৃতিকে জনপ্রিয় করতে বড় ভূমিকা রাখছে।
আধুনিক এই রিটেইল বিপ্লবে বর্তমানে শীর্ষস্থানে রয়েছে দেশের বৃহত্তম চেইন শপ ‘স্বপ্ন’। দেশের ৬৪টি জেলাতেই এখন তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত। শহর ছাড়িয়ে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও সেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত একটি স্বচ্ছ সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রচলিত বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে কৃষক যেখানে প্রায়ই পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন এবং ভোক্তাকে গুনতে হয় বাড়তি দাম, সেখানে ‘স্বপ্ন’ সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কৃষিপণ্য সংগ্রহের কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। নিজস্ব বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে গুণগত মান নিশ্চিত করে তারা পণ্য সংগ্রহ করে। ফলে কৃষক যেমন নিশ্চিত বাজার পাচ্ছেন, তেমনি ভোক্তারাও পাচ্ছেন অপচয়মুক্ত, তাজা ও নিরাপদ পণ্য।
বাংলাদেশের আধুনিক খুচরা বাজারের এই বিকাশ আন্তর্জাতিক মহলেরও নজর কেড়েছে। যার বড় প্রমাণ জাপানের অন্যতম শীর্ষ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড’-এর কৌশলগত অংশীদারত্ব। স্বল্পমেয়াদি লাভের বদলে করপোরেট সুশাসন ও দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে চলা এই প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বাংলাদেশের ভোক্তা বাজারের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির প্রতি একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নগরায়ণ, ভোক্তাদের সচেতনতা এবং ডিজিটাল কেনাকাটার এই যুগে সাধারণ মানুষের কেনাকাটার ধরনে যে ঐতিহাসিক রূপান্তর ঘটেছে, তাতে নেতৃত্ব দিয়ে দেশের রিটেইল খাতের মূল অনুঘটক হয়ে উঠেছে ‘স্বপ্ন’।

