একদিকে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাবে উত্তর কোরিয়ার প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টিতে ভুগছেন, অন্যদিকে দেশের চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও সর্বোচ্চ শাসক কিম জং–উন ও তাঁর পরিবার কাটিয়ে যাচ্ছেন কল্পনাতীত বিলাসী জীবন। স্যাটেলাইট থেকে তোলা সাম্প্রতিক কিছু ছবি বিশ্লেষণ করে উত্তর কোরিয়ার ওয়ানসান উপকূলে দেখা মিলেছে কিম পরিবারের ব্যবহারের কয়েকটি সুবিশাল ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল বিলাসবহুল নৌযান বা প্রমোদতরীর।
ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যম বিবিসির অনুসন্ধানী বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ওয়ানসানের কালমা উপদ্বীপের কাছে গত জুলাই থেকে চলতি অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বারবার একটি ৮০ মিটার (২৬৩ ফুট) দীর্ঘ প্রমোদতরী অবস্থান করতে দেখা গেছে। প্রমোদতরীটির ডেকে রয়েছে একটি ৫০ মিটার লম্বা সুইমিংপুল এবং এক প্রান্তে চমৎকার সব ওয়াটার স্লাইড। এ ছাড়া এর আশপাশে আরও ৫০, ৫৫ ও ৬০ মিটার দীর্ঘ তিনটি বড় নৌযান শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক কোটি থেকে ১০ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে।
উত্তর কোরিয়ার সাবেক কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা জানান, তীব্র গোপনীয়তার আড়ালে এই প্রমোদতরীগুলো মূলত কিম পরিবার ও তাঁদের সফরসঙ্গীদের ব্যক্তিগত বিনোদন এবং স্বস্তিদায়ক অবকাশযাপনের কাজে ব্যবহৃত হয়। ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির প্রাক্তন কর্মকর্তা রি জং হো জানান, শীতকালে এসব নৌযান মেরামতের জন্য পাঠানো হলেও গ্রীষ্মে কিমের বিলাসবহুল ভিলার উপকূলে নিয়ে আসা হয়। অত্যন্ত কঠোর সীমান্ত ও ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণের দেশে যখন সাধারণ মানুষের এক দিন ছুটি কাটানো বিলাসিতা, ঠিক তখনই কোটি ডলারের এই ক্রুজগুলোতে সময় কাটাচ্ছেন একনায়ক শাসক।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে কিম জং–উনকে সব সময় দেশের কল্যাণে আত্মত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে প্রচার করা হলেও, স্যাটেলাইটের এই দৃশ্যগুলো দেশটির সাধারণ মানুষের অনাহার এবং শাসকমহলের চরম বৈষম্য ও বিলাসিতার স্পষ্ট ছবি তুলে ধরেছে।

