লালমনিরহাটে টিকাদান কার্যক্রম পুনরায় চালু এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ভ্যাকসিনেটরদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবিতে সিভিল সার্জনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত ভ্যাকসিনেটররা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) লালমনিরহাট জেলার সব ভ্যাকসিনেটরের পক্ষে আনিছুর রহমান সিভিল সার্জন বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন টিকাদান ও জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমে যুক্ত থাকার বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত তাদের পুনরায় কাজে যুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ২০২০ সাল থেকে লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মাল্টিপারপাস হেলথ ভলান্টিয়ার (GAVI ও WHO) হিসেবে তাঁরা স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে বিভিন্ন টিকাদান কর্মসূচিতে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিশেষ করে নিয়মিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই (EPI) কার্যক্রমসহ বিভিন্ন জনস্বাস্থ্যসেবায় তৃণমূল পর্যায়ে তাঁরা কাজ করেছেন।
পরবর্তী সময়ে লালমনিরহাট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ১৮ জুন ২০২৫ তারিখের স্মারক অনুযায়ী WHO-এর মাধ্যমে তাঁদের ভ্যাকসিনেটর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর জেলার বিভিন্ন এলাকায় টিকাদান কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন তাঁরা।
তবে স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে তাঁদের টিকাদান কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে নতুন করে দায়িত্ব না পাওয়ায় জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও অভিজ্ঞ ভ্যাকসিনেটররা কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন।
ভ্যাকসিনেটরদের দাবি, দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে কাজ করার কারণে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁদের রয়েছে। এই জনবলকে পুনরায় কাজে লাগানো হলে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর ও গতিশীল করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
ভ্যাকসিনেটরদের প্রতিনিধি আনিছুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা থাকার পরও বর্তমানে কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। তাঁদের অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা হলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রমও আরও শক্তিশালী হবে।
স্মারকলিপিতে মানবিক দিক বিবেচনার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। ভ্যাকসিনেটররা দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম পুনরায় চালু এবং তাঁদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।



