একটি স্মার্টফোন, নিজের দৈনন্দিন জীবনের গল্প আর লেগে থাকার মানসিকতা—এই তিনটি বিষয়কে পুঁজি করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তাসনিম হোসেন। নেটিজেনদের কাছে ‘প্রমিতি’ নামেই বেশি পরিচিত এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এখন বাংলাদেশের ডিজিটাল কন্টেন্ট জগতের পরিচিত মুখ।

২০০০ সালের ১৭ অক্টোবর ঢাকায় জন্ম নেওয়া প্রমিতির এই পথচলা অবশ্য শুরু থেকেই সাফল্যে ভরা ছিল না। কন্টেন্ট তৈরির শুরুর দিকে তাঁর ভিডিওতে ভিউ ও লাইকের সংখ্যা ছিল খুবই কম। মাসের পর মাস কাজ করেও প্রত্যাশিত সাড়া পাননি। তবে হতাশ হয়ে থেমে যাওয়ার বদলে তিনি আরও মনোযোগী হন নিজের কাজে।
ভিডিওর মান, সম্পাদনা ও উপস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে থাকেন প্রমিতি। কোন ধরনের কন্টেন্ট দর্শক পছন্দ করছেন, কীভাবে আরও সুন্দরভাবে নিজের গল্প তুলে ধরা যায়—এসব বিষয়েও গুরুত্ব দেন। ধীরে ধীরে তাঁর ভিডিও দর্শকদের নজর কাড়তে শুরু করে। ধারাবাহিকতা আর কাজের প্রতি এই একাগ্রতাই তাঁর এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম শক্তি হয়ে ওঠে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রমিতির বর্তমান উপস্থিতিও বেশ শক্তিশালী। টিকটকে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখের কাছাকাছি। পাশাপাশি ফেসবুকে আড়াই লাখের বেশি, ইনস্টাগ্রামে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার অনুসারী এবং ইউটিউবে প্রায় ৩৬ হাজার সাবস্ক্রাইবার রয়েছে তাঁর।
তবে প্রমিতির পথচলা শুধু ফ্যাশন কিংবা লাইফস্টাইল কন্টেন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। একজন নারী কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজ করতে গিয়ে তাঁকে সাইবার বুলিং, বডি শেমিং ও ট্রোলিংয়েরও মুখোমুখি হতে হয়েছে।
শুরুর দিকে নেতিবাচক মন্তব্য তাঁর মানসিক শান্তিতে প্রভাব ফেললেও সময়ের সঙ্গে সেগুলো সামলাতে শিখেছেন তিনি। বরং নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অনুসারীদের আত্মবিশ্বাসী হতে এবং নেতিবাচক মন্তব্য উপেক্ষা করে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে আসছেন।
এই ধারাবাহিক উপস্থিতি ও দর্শকদের সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্কের কারণে বিভিন্ন লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডের সঙ্গেও কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে প্রমিতির। ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বর্তমান সময়ে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের ব্যক্তিগত উপস্থাপনা ও দর্শকের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক ব্র্যান্ড প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সেই জায়গায় নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন প্রমিতি।
ঢাকার একটি সাধারণ জীবন থেকে ডিজিটাল দুনিয়ায় পরিচিত মুখ হয়ে ওঠার এই পথচলায় তাসনিম হোসেন প্রমিতির সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল ধারাবাহিকতা। কম ভিউ, ট্রোলিং কিংবা সমালোচনা—কোনোটিকেই নিজের কাজ থামিয়ে দেওয়ার কারণ হতে দেননি তিনি।
তাঁর এই যাত্রা তাই শুধু একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের জনপ্রিয় হয়ে ওঠার গল্প নয়; বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পরিচয় তৈরি করতে চাওয়া নতুন প্রজন্মের জন্য লেগে থাকা, নিজের কাজের মান বাড়ানো এবং আত্মবিশ্বাস ধরে রাখারও একটি গল্প।